মোদির বাসভবনের সামনে কংগ্রেসের বিক্ষোভ, পদত্যাগের দাবি

প্রকাশিত: ৭:৩২ অপরাহ্ণ, জুলাই ২১, ২০২৬

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর নেতৃত্বে দলের নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে মিছিল করেন। এর একদিন আগেই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) বা ‘তেলাপোকা’ আন্দোলনের সংসদ অভিমুখে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

দলীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী রাতভর এই বিক্ষোভ চালিয়ে যেতে পারেন। রাহুল গান্ধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থকদের এই কর্মসূচিতে যোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা মানে প্রতিটি ভারতীয় পরিবারের ওপর হামলা। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি মনে করেন কোনো জবাবদিহি ছাড়াই তিনি পার পেয়ে যাবেন, কিন্তু এবার তা হবে না। ভারতের শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর উপেক্ষা করা যাবে না বলে মন্তব্য করেন রাহুল।

মঙ্গলবার দুপুরে মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনের সামনে থেকে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে মোদির সরকারি বাসভবনের দিকে যান। বিক্ষোভের খবর পেয়ে দিল্লি পুলিশ নিরাপত্তা জোরদার ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে। এ সময় কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটকও করা হয়। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং ঘটনাস্থলে এসে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে আলোচনা করলেও তা কোনো সমাধানে পৌঁছায়নি। কংগ্রেস সাংসদ সৈয়দ নাসির হুসেইন জানান, তারা শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে সংসদে পূর্ণাঙ্গ আলোচনার দাবিতে অনড়।

রাহুল গান্ধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ভারতের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করার দায়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর পদত্যাগ করা উচিত। অন্যদিকে বিজেপি অভিযোগ করেছে, কংগ্রেসের এই কর্মসূচি প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। পাল্টা জবাবে কংগ্রেস সাংসদ মানিকম ঠাকুর জানান, তাদের বিক্ষোভ সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং সংসদে কথা বলার সুযোগ না পাওয়ায় তারা রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছেন।

বিরোধী জোটের ভেতরেও এই কর্মসূচি নিয়ে মতভেদ দেখা দিয়েছে। আম আদমি পার্টি (এএপি) দাবি করেছে, কংগ্রেসের এই বিক্ষোভ আসলে বিজেপিরই কৌশল, যা ‘তেলাপোকা’ আন্দোলন থেকে জনদৃষ্টি সরাতে সহায়তা করছে। এদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা নিয়ে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মুখ খুলেছেন। তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকানো একটি জাতীয় দায়িত্ব এবং এ ধরনের ঘটনা রোধে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানিয়েছেন, সরকার এ বিষয়ে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।