খুলনায় বাবা-মেয়ে হত্যায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল, ধর্ষণের সাজা যাবজ্জীবন প্রকাশিত: 11:32 PM, July 23, 2026 খুলনার লবণচরা এলাকায় এক দশকেরও বেশি সময় আগে সংঘটিত বাবা ও মেয়েকে হত্যার ঘটনায় পাঁচ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে মেয়েকে ধর্ষণের মামলায় তাদের সাজা সংশোধন করে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করেন। পৃথক দুই মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শেষে এই আদেশ দেওয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মো. লিটন, সাইফুল ইসলাম ওরফে পিটিল, আবু সাঈদ, আজিজুর রহমান ওরফে পলাশ ও শরিফুল ইসলাম। তাঁরা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর লবণচরা থানার বুড়ো মৌলভীর দরগাপাড়ার একটি বাড়িতে ইলিয়াস চৌধুরী (৭৩) ও তার মেয়ে পারভীন সুলতানা (৩০) নৃশংসভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। ঘটনার দিন রাতে তাদের স্বজনরা বাড়িতে গিয়ে ঘরের ভেতর জিনিসপত্র তছনছ অবস্থায় দেখতে পান। এক পর্যায়ে বাড়ির আঙিনায় থাকা সেপটিক ট্যাংকের ঢাকনা খুলে বাবা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্ত ও তদন্তে জানা যায়, ইলিয়াস চৌধুরীকে রশি দিয়ে শ্বাসরোধে এবং পারভীন সুলতানাকে দলবদ্ধ ধর্ষণের পর ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এরপর আসামিরা ঘর থেকে মূল্যবান সামগ্রী ও টাকা লুট করে পালিয়ে যায়। ঘটনার পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর নিহতের ছেলে রেজাউল আলম চৌধুরী বাদী হয়ে লবণচরা থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে আসামি মো. লিটনকে গ্রেপ্তারের পর তার স্বীকারোক্তিতে পাঁচজনের সংশ্লিষ্টতা বেরিয়ে আসে। এর ভিত্তিতে ২২ সেপ্টেম্বর ধর্ষণের অভিযোগে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়। ২০১৯ সালের ১৬ জুলাই খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ পাঁচ আসামিকে উভয় মামলায় মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছিলেন। সেই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা জেল আপিল ও আপিল করেছিলেন। হাইকোর্টের রায়ের বিষয়ে আইনজীবী মো. মিজানুর রহমান খান জানান, ডাকাতির সঙ্গে হত্যার দায়ে বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। তবে ধর্ষণের মামলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(৩) ধারার পরিবর্তে ৯(১) ধারায় সাজা সংশোধন করে মৃত্যুদণ্ডের বদলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মামলার শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক এবং বাদীপক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ তাজুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা অংশগ্রহণ করেন। রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আইনজীবী জানান। SHARES জাতীয় বিষয়: খুলনাধর্ষণ মামলামৃত্যুদণ্ডযাবজ্জীবন কারাদণ্ডহত্যা মামলাহাইকোর্ট