ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ, যুক্তিতর্ক ৪ আগস্ট প্রকাশিত: ৪:১৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২, ২০২৬ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের শীর্ষ সাত নেতার বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আগামী ৪ আগস্ট মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য করেছেন। রবিবার (২ আগস্ট) ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। এদিন মামলার ২৭তম সাক্ষী তথা তদন্তকারী কর্মকর্তা আহমেদ নাসের উদ্দিন মোহাম্মদকে জেরা করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী লোকমান হাওলাদার ও ইশরাত জাহান। জেরা সম্পন্ন হওয়ার পর আদালত যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য নতুন এই তারিখ নির্ধারণ করেন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে অংশ নেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। এ সময় প্রসিকিউটর মঈনুল করিমসহ অন্যান্য আইনজীবীরাও আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত ২৬ জুলাই মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছিলেন সাংবাদিক আশরাফ কায়সার। তিনি তার জবানবন্দিতে আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলের বিভিন্ন চিত্র এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরেন। মামলার প্রথম দফার সাক্ষ্যগ্রহণ গত ২৭ এপ্রিল শেষ হয়েছিল এবং তখন যুক্তিতর্কের জন্য দিনও ধার্য করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিক আশরাফ কায়সারের অতিরিক্ত জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়, যার ধারাবাহিকতায় তদন্ত কর্মকর্তাও পুনরায় সাক্ষ্য দেন। এই মামলার অন্য ছয় আসামি হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। আদালতের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত সাত আসামির সকলেই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি এই সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল-২। এর আগে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপক্ষের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগটি আমলে নেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন। এছাড়া নিজেদের নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানোসহ একাধিক বৈঠকে তারা সহিংসতার পরিকল্পনা করেছিলেন। কোথাও কোথাও সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণেও তাদের ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, আসামিদের এসব কর্মকাণ্ডের ফলেই দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতা সংঘটিত হয়েছে, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে শাস্তিযোগ্য। SHARES অন্যান্য বিষয়: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালওবায়দুল কাদেরজুলাই গণঅভ্যুত্থানমানবতাবিরোধী অপরাধমামলাসাক্ষ্যগ্রহণ