ইসলামে যেসব প্রাণী খাওয়া নিষিদ্ধ, জেনে নিন শরিয়তের নির্দেশনা প্রকাশিত: ১০:০৪ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১০, ২০২৬ মানুষের জীবনযাপনের প্রতিটি বিষয়ের মতো কোন কোন প্রাণী খাওয়া যাবে আর কোনটি যাবে না, সে বিষয়ে ইসলামে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। ইসলামে পবিত্র ও কল্যাণকর খাবার গ্রহণ এবং অপবিত্র বা ক্ষতিকর খাদ্য বর্জনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআনের সুরা আল-আরাফের ১৫৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘আর তিনি তাদের জন্য পবিত্র বস্তুগুলো হালাল করেছেন এবং অপবিত্র ও নোংরা বস্তুগুলো হারাম করেছেন।’ ইসলামি বিধান অনুযায়ী প্রাণিজগৎ প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত—স্থলজ ও জলজ। জলজ বা পানিতে বসবাসকারী প্রাণীদের মধ্যে কেবল মাছ ছাড়া অন্য সব প্রাণী খাওয়া হারাম বা নিষিদ্ধ। অন্যদিকে, স্থলজ বা মাটিতে বিচরণকারী প্রাণীদের তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম ভাগে রয়েছে রক্তহীন প্রাণী, যেমন—মশা, মাছি, মাকড়সা ও পিঁপড়া। দ্বিতীয় ভাগে রয়েছে প্রবাহিত রক্তহীন প্রাণী, যেমন—সাপ ও ইঁদুর। এই দুই প্রকারের মধ্যে ‘টিড্ডি’ (এক ধরনের ফড়িং) ছাড়া বাকি সব প্রাণীই ঘৃণিত ও নিকৃষ্ট হওয়ায় তা খাওয়া হারাম। তৃতীয় ভাগে রয়েছে প্রবাহিত রক্তবিশিষ্ট প্রাণী, যার মধ্যে পাখি ও চতুষ্পদ জন্তু অন্তর্ভুক্ত। পাখির ক্ষেত্রে যেসব পাখি থাবা ও নখর দিয়ে শিকার করে খায়, যেমন—চিল, শকুন, বাজ ও ঈগল, সেগুলো খাওয়া মাকরুহে তাহরিমি বা নিষিদ্ধ। এ প্রসঙ্গে সহিহ বুখারির ৫৫৩০ নম্বর হাদিসে আবু সালাবা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রত্যেক শিকারি দাঁতবিশিষ্ট হিংস্র প্রাণী ও প্রত্যেক শিকারি নখবিশিষ্ট পাখি খেতে নিষেধ করেছেন।’ তবে যেসব পাখি ঠোঁটের সাহায্যে খাবার খায়, সেগুলো খাওয়া হালাল। এর মধ্যে যেগুলো নাপাকি বা নোংরা জিনিস খায়, সেগুলো খাওয়া মাকরুহ। তবে পাখির বেশির ভাগ খাবার যদি হালাল হয়, তাহলে তা খাওয়া হালাল হবে। স্থলজ পশুদের মধ্যে যেসব পশু থাবা মেরে ও আক্রমণ করে শিকার করে, যেমন—সিংহ, বাঘ, কুকুর, শিয়াল, বিড়াল, বানর ও হাতি, সেগুলো খাওয়া সম্পূর্ণ হারাম। বিপরীতে, অহিংস্র পশুর মধ্যে যাদের পুরো শরীর পবিত্র, সেগুলো খাওয়া হালাল। এর মধ্যে রয়েছে গৃহপালিত গরু, ছাগল, মহিষ, ভেড়া, উট ও দুম্বা। বন্য পশুদের মধ্যে বন্য গরু, হরিণ, খরগোশ ও বন্য গাধা খাওয়া বৈধ। তবে যেসব প্রাণীর পুরো শরীর অপবিত্র, যেমন—শূকর, তা খাওয়া হারাম। সুরা আল-আনআমে আল্লাহ বলেন, ‘আপনি বলে দিন, আমার প্রতি যে ওহি বা প্রত্যাদেশ করা হয়েছে, তাতে মানুষ যা আহার করে তার কিছুই নিষিদ্ধ পাই না মৃত, প্রবহমান রক্ত ও শূকরের মাংস ছাড়া। কারণ তা অপবিত্র।’ (আয়াত: ১৪৫) শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, সব ধরনের ঘোড়া ও গৃহপালিত গাধা খাওয়া মাকরুহ। আবার হালাল প্রাণীদের মধ্যে যেগুলো সার্বক্ষণিক অপবিত্র জিনিস খেয়ে বেঁচে থাকে, সেগুলো খাওয়াও মাকরুহ। এ বিষয়ে সাহাবি জাবের (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) খায়বার যুদ্ধের দিন গৃহপালিত গাধা খেতে নিষেধ করেছেন এবং ঘোড়ার গোশত খাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪২১৬)। এ ছাড়া আল্লাহর নাম না নিয়ে জবাই করা কোনো হালাল প্রাণীও খাওয়া যাবে না। সুরা আল-আনআমের ১২১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘তোমরা তা থেকে আহার করো না, যার ওপর আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা হয়নি।’ তবে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে এসব প্রাণী খাওয়া নিষিদ্ধ হলেও বিশেষ পরিস্থিতিতে নিয়মের শিথিলতা রয়েছে। চরম খাদ্যসংকট, জীবন বাঁচানো কিংবা চিকিৎসার মতো জরুরি প্রয়োজনে সীমিত পরিসরে নিষিদ্ধ প্রাণী ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে ইসলাম। সুরা আল-আনআমের ১১৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের কী হয়েছে যে, যাতে আল্লাহর নাম নেওয়া হয়েছে তা তোমরা খাবে না? তোমাদের জন্য যা হারাম করা হয়েছে তা তোমাদের জন্য বিশদভাবে বাতলে দেওয়া হয়েছে, তবে যদি তোমরা নিরুপায় হও, (তবে ততটুকু নিষিদ্ধ বস্তু খেতে পার যাতে প্রাণে বাঁচতে পার)।’ স্থলজ প্রাণী তিন প্রকার। ১. ওই সব প্রাণী, যার কোনো রক্ত নেই। যথা- মশা, মাছি, মাকড়সা, পিঁপড়া ইত্যাদি। ২. প্রবাহিত রক্তবিশিষ্ট প্রাণী নয়। যেমন- সাপ, ইুঁদর ইত্যাদি। উভয় প্রকার প্রাণীর মধ্যে টিড্ডি ছাড়া বাকি সব ঘৃণিত ও নিকৃষ্ট হওয়ায় সেগুলো খাওয়া হারাম। ৩. ওই সব প্রাণী, যা প্রবাহিত রক্তবিশিষ্ট হয়। যেমন- পাখি ও অন্যান্য চতুষ SHARES অন্যান্য বিষয়: ইসলামইসলামিক নির্দেশনাশরিয়তের বিধানহারাম প্রাণীহালাল খাবার