জুলাই অভ্যুত্থান: অস্বীকার ও কলঙ্কিতকরণের রাজনীতির দুই বছর প্রকাশিত: ১:৩০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১০, ২০২৬ ২০২৪ সালের জুলাই মাসে যখন আন্দোলনের সময় হত্যা ও নৃশংসতার বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ সামনে আসত, তখন আওয়ামী লীগপন্থিরা সেগুলোকে পরিকল্পিতভাবে 'ফেক' বা প্রোপাগান্ডা বলে আখ্যায়িত করত। ৫ আগস্ট পর্যন্ত তারা প্রতিটি হত্যাকাণ্ড এবং ছাত্র-জনতার প্রতিরোধের ঘটনাকে কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই অস্বীকার করার কৌশল গ্রহণ করেছিল। এমনকি আন্দোলনের ছবি বা প্রতিরোধের ভিডিও পোস্টের নিচে এসেও তারা একই ধরনের প্রোপাগান্ডার অভিযোগ তুলত। ২০২৬ সালের জুলাই মাসে দাঁড়িয়েও দেখা যাচ্ছে, গত দুই বছর ধরে এই অস্বীকার বা 'ডিনায়াল'-এর রাজনীতি অব্যাহত রেখেছে দলটি। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি সচেতন রাজনৈতিক অবস্থান। তাদের এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো, দলের দ্বারা সংঘটিত অপরাধগুলোকে চোখ বন্ধ করে অস্বীকার করা, যাতে অপরাধের কোনো প্রমাণ না থাকে এবং এক ধরনের দায়মুক্তি নিশ্চিত করা যায়। অপরাধী যতক্ষণ স্বীকারোক্তি না দিচ্ছে, ততক্ষণ অপরাধ ঘটেনি—এই মানসিকতা আওয়ামী লীগ ও তাদের সমর্থকরা ধর্মীয় বিশ্বাসের মতো চর্চা করে আসছে। দুঃখজনকভাবে, জুলাই অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যান্য স্টেকহোল্ডাররাও এই অস্বীকারের সংস্কৃতিকে এনডোর্স ও প্যাট্রোনাইজ করেছে। অস্বীকারের পাশাপাশি আরেকটি কার্যকর রাজনৈতিক কৌশল হলো ডিফেমেশন বা কলঙ্কিতকরণের রাজনীতি। কোনো ব্যক্তি বা বিষয়ের গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট করার জন্য তার ওপর কলঙ্ক আরোপ করা অত্যন্ত কার্যকর একটি পন্থা। পর্যাপ্ত পরিমাণে কলঙ্ক আরোপ করতে পারলে সরাসরি গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট করে দেওয়া যায়, যা রাজনীতিতে খুবই কার্যকর। জুলাই অভ্যুত্থান এবং পরবর্তী গত দুই বছরে আমরা দেখেছি যে, আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে কীভাবে এই ডিফেমেশনের রাজনীতিকে ব্যবহার করা হয়েছে। প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২৬, ১৩: ২৮আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৬, ১৩: ২৯ SHARES অন্যান্য বিষয়: অস্বীকারের রাজনীতিআওয়ামী লীগজুলাই অভ্যুত্থানডিফেমেশনরাজনৈতিক কৌশল