হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজয় স্বীকারের বার্তা ইরানের

প্রকাশিত: ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৬, ২০২৬

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার মধ্যেই তেহরান ওয়াশিংটনকে পরাজয় মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি শনিবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে স্পষ্ট করেছেন যে, হরমুজ প্রণালি ইরানের নির্দেশেই খোলা ও বন্ধ হবে। তিনি বলেন, যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্র বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে অলীক কল্পনা থেকে বেরিয়ে আসছে, ততক্ষণ ইরান অবরোধ অব্যাহত রাখবে। কাজেম আরও জোর দিয়ে বলেন, কোনো টুইট, বিমানবাহী রণতরী কিংবা নির্বাচনী বক্তৃতার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া সম্ভব নয়।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা শুরু করার কোনো সিদ্ধান্ত তেহরান নেয়নি। শাহরারা নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে কিছু শর্ত মেনে নিতে হবে।

এদিকে, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের জেরে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার বিষয়ে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। শুক্রবার নিউইয়র্কের গার্ডেন সিটিতে এক রাজনৈতিক সমাবেশে তিনি বলেন, একটি নিকৃষ্ট দেশ যাতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সেজন্য পেট্রোলের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়া সার্থক। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো, যা বর্তমানে কার্যত অচল।

আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের গড় দাম ছিল প্রায় ৪ দশমিক ০৮ ডলার, যা গত বছরের তুলনায় ২৯ শতাংশ বেশি। দ্বিতীয় মেয়াদের নির্বাচনী প্রচারণায় পেট্রোলের দাম কমানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও বর্তমানে দাম বাড়ায় মার্কিন ভোক্তাদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে, যা দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়াচ্ছে এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।