সখীপুরে মৃত নারীকে জীবিত করার দাবিতে কবরের পাশে ওঝার ঝাড়ফুঁক

প্রকাশিত: ৩:৩২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৬, ২০২৬

টাঙ্গাইলের সখীপুরে সাপের কামড়ে মারা যাওয়া হাসনা বেগম (৫৮) নামের এক নারীকে দাফনের দুই দিন পর 'জীবিত' করার দাবি করে কবরের পাশে ঝাড়ফুঁক করেছেন গাজী মিয়া নামের এক ওঝা। শনিবার উপজেলার চতলবাইদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ওঝা গাজী মিয়ার বাড়ি বাসাইল উপজেলার কৈলাণপুর গ্রামে। মৃত হাসনা বেগমের বাড়ি সখীপুর উপজেলার হতেয়া-ভাতকুড়াচালা এলাকায়।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার বিষধর সাপের কামড়ে হাসনা বেগম মারা যান। স্বজনেরা তাঁকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন। পরে চতলবাইদ গ্রামে তাঁর মেয়ে খালেদা বেগমের বাড়ির পাশে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, সাপে কাটার খবর পেয়ে ওঝা গাজী মিয়া চতলবাইদ গ্রামে আসেন এবং দাবি করেন যে হাসনা বেগম মারা যাননি। তিনি কবরের এক পাশে সামান্য সুড়ঙ্গ খুঁড়ে গন্ধ শুঁকে তেলের গন্ধ পেয়েছেন বলে দাবি করেন। ওঝার এমন দাবিতে উৎসুক এলাকাবাসীও কবরের পাশে ভিড় করেন।

ওঝা গাজী মিয়া মৃত হাসনা বেগমের মেয়ে খালেদা বেগমকে জানান, আগামী মঙ্গলবার তিনি পুনরায় কবরের পাশে আসবেন। ওই সময় কবরের গন্ধ শুঁকে যদি কোনো দুর্গন্ধ না পাওয়া যায়, তবে মরদেহ উত্তোলন করে ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে সাপের বিষ নামিয়ে তাঁকে জীবিত করা সম্ভব বলে তিনি দাবি করেন। তবে লাশে পচন ধরলে তাঁকে আর জীবিত করা সম্ভব হবে না বলে জানান তিনি। এ ঘটনার সাড়ে তিন মিনিটের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পাঞ্জাবি-লুঙ্গি পরিহিত ওই ব্যক্তি কবরের ওপর কিছু ছিটাচ্ছেন এবং বাঁশ দিয়ে গর্ত করে গন্ধ শুঁকছেন।

হাসনা বেগমের মেয়ে খালেদা বেগম জানান, শুরুতে মায়ের বেঁচে ওঠার আশায় তিনি অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু ওঝা পরবর্তীতে তাকে ফোন করে জানান যে, রাতে ধ্যানে বসে তিনি দেখেছেন মা বেঁচে নেই। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য রোববার বেলা সোয়া ১১টার দিকে প্রতিবেদক ওঝা গাজী মিয়ার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, গতকাল তিনি জীবিত ছিলেন, কিন্তু এখন আর ওই রোগীকে বাঁচানো সম্ভব নয়।

সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন এই ঘটনাকে হাস্যকর ও অকল্পনীয় বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, চিকিৎসকের মৃত ঘোষণার পর কবর দেওয়া নারীকে জীবিত করার দাবি বৈজ্ঞানিক ভিত্তিহীন। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের ওঝাকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা উচিত এবং সাপে কাটার পর এ ধরনের বিভ্রান্তিতে না পড়ে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন।