বাংলাদেশে বিনিয়োগে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রতি আহ্বান জানালেন মন্ত্রী প্রকাশিত: ৩:০৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৪, ২০২৬ নবনিযুক্ত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠক শেষে এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সাংবাদিকদের জানান, আলোচনায় বাংলাদেশের সরকারি নীতি, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং সরকারের ছয় মাসের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতির বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে। বৈঠকে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সম্প্রসারণ এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে দুই দেশের সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়। বিশেষ করে পানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। মীর শাহে আলম উল্লেখ করেন, এসব খাতে আধুনিক প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। তিনি বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার অবকাঠামো, পানি ও পয়োনিষ্কাশন এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি খাতে মার্কিন বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রদূতকে এ বিষয়ে আরও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান। বৈঠকে বাংলাদেশের সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচির প্রশংসা করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। বিশেষ করে স্কুল শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে ব্যাগ বিতরণ এবং স্কুল ফিডিং কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। আলোচনায় উঠে আসে যে, এসব উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করা এবং ঝরে পড়ার হার কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। এছাড়া দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ সব মানুষের কাছে নাগরিক সেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে সরকারের অগ্রাধিকার তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। পানি ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং দ্রুত নগরায়নের ফলে সৃষ্ট বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি গ্রহণের ওপর উভয় পক্ষ গুরুত্বারোপ করে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার বিষয়েও দুই দেশ সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। মীর শাহে আলম বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও পারস্পরিক স্বার্থভিত্তিক সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতাকে আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি নতুন নতুন খাতে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, পানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির মতো খাতে সহযোগিতা বাড়লে তা বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বৈঠকটি এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন বাংলাদেশ বিভিন্ন খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং উন্নয়ন সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকার খাতের অবকাঠামো উন্নয়ন, নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন নিশ্চিত করার যে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, তাতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সম্পৃক্ততা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। SHARES জাতীয় বিষয়: ড. আবদুল মঈন খানবিনিয়োগব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনমার্কিন যুক্তরাষ্ট্রস্থানীয় সরকার