গঙ্গাচড়ায় সড়ক উন্নয়নকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ

প্রকাশিত: ৩:০৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৪, ২০২৬

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ২ কোটি ৭১ লাখ টাকা ব্যয়ে চলমান এই প্রকল্পের কাজের মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের নির্ধারিত কোনো মানদণ্ডই মানা হচ্ছে না এবং সালট, ঝামা ও তৃতীয় শ্রেণির ইট ভেঙে খোয়া তৈরি করে তা ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া কিছু জায়গায় বড় আকারের খোয়া ব্যবহারেরও অভিযোগ রয়েছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের ‘প্রভাতি’ প্রকল্পের আওতায় প্রায় আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটির উন্নয়নকাজ চলছে। পূর্ব নবনীদাস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বুড়িরহাট রোড পর্যন্ত এই প্রকল্পের জন্য ২ কোটি ৭১ লাখ ৯১ হাজার ৮৪৬ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সড়ক উন্নয়নের পাশাপাশি এই প্রকল্পের আওতায় চারটি আরসিসি ইউড্রেন, চারটি কালভার্ট, একটি বক্স কালভার্ট, একটি সাড়ে তিন মিটার কালভার্ট এবং বিভিন্ন স্থানে গাইড ওয়াল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, পৌনে তিন কোটি টাকা সরকারি ব্যয়ে এই সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে অথচ অত্যন্ত নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে এসে কাজের মান যাচাই করার দাবি জানিয়ে বলেন, সরকারি অর্থের এমন অপচয় মেনে নেওয়া যায় না। অপর স্থানীয় বাসিন্দা আলা মিয়া বলেন, মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার না করায় এই রাস্তা বেশি দিন টিকবে না। জনস্বার্থে নির্মিত এই সড়কের গুণগত মান নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হলেও তারা এ বিষয়ে উদাসীন।

প্রকল্পের ঠিকাদারি ও বাস্তবায়নের বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। গঙ্গাচড়া এলজিইডি কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে তারা মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের তথ্য দিতে পারেনি। তবে কার্যালয় থেকে এমদাদুল হক নামে একজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং মাঠপর্যায়ে মহব্বত আলী নামে এক ব্যক্তি কাজটি বাস্তবায়ন করছেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রকৌশলী জয়া স্যানাল অনুপস্থিত থাকায় উপসহকারী প্রকৌশলী লুৎফর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। পরবর্তীতে রংপুরের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী ও গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রকৌশলীর দায়িত্বে থাকা তরুণ কুমার সরকার মুঠোফোনে জানান, বিষয়টি তিনি খোঁজখবর নিয়ে জানাবেন। স্থানীয়রা এখন প্রকল্পের কার্যাদেশ, চুক্তিপত্র ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের তথ্যসহ কাজের মান যথাযথভাবে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজ শুরুর পর থেকেই নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে সড়কের কাজে ব্যবহৃত ইটের খোয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তারা। তাদের দাবি, সালট, ঝামা ও তৃতীয় শ্রেণির ইট ভেঙে তৈরি খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও প্রায় ৫ থেকে ৬ ইঞ্চি আকারের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।