নবুওয়তের মিথ্যা দাবিদার আহমদ ঈসার পরিচয় ও অপতৎপরতা প্রকাশিত: ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৫, ২০২৬ ২০১৮ সালের ৮ নভেম্বর ‘আহমদ ঈসা’ নামক এক ব্যক্তি ‘নাবা সেভেন’ নামের ইউটিউব চ্যানেলে নবুওয়তের মিথ্যা দাবি প্রচার শুরু করে। ভিডিও ক্লিপে সে ঘোষণা দেয়, তার রচিত ‘আল-কিতাব’-এর সমকক্ষ কিছু তৈরি করার ক্ষমতা দুনিয়ার কোনো শক্তির নেই। সে দাবি করে, কোরআনে তার সম্পর্কেই সবচেয়ে বেশি আলোচনা রয়েছে এবং যে ব্যক্তি তার কিতাব পড়বে, সে তাকে আল্লাহর রাসুল হিসেবে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য হবে। এই ব্যক্তি মুহাম্মদ (সা.)-কে শেষ নবী হিসেবে বিশ্বাসকারীদের মূর্খ বলে অভিহিত করে এবং খতমে নবুওয়তের আকিদাকে ভ্রষ্টতা বলে দাবি করে। সে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয় যে, মুহাম্মদ (সা.) শেষ নবী হওয়ার প্রমাণ কেউ দিতে পারলে সে যেকোনো শাস্তি মেনে নেবে। তার দাবি অনুযায়ী, মুহাম্মদ (সা.) শেষ নবী নন এবং তাকে ভারত উপমহাদেশের মানুষের জন্য পাঠানো হয়নি। এই ভণ্ড দাবিদারের প্রকৃত নাম আদনান নজির আরাঈ। সে পাকিস্তানের গুজরাত প্রদেশের খাটানা গ্রামের অধিবাসী। তার জীবনের শুরু থেকেই সে বিভিন্ন কুকর্মে জড়িত ছিল। গ্রামের যুবকদের সঙ্গে কুকর্মে লিপ্ত হওয়ার পর সে তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর করার হুমকি দিয়ে আট লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। তার বাবা রেলস্টেশনে আইসক্রিম বিক্রি করতেন। আদনান কিছুদিন স্পেনে কাদিয়ানিদের সঙ্গে ওঠাবসা করে এবং বাবার মৃত্যুর পর পাকিস্তানে ফিরে আসে। তার বাবার জানাজা পড়াতে স্থানীয় ইমাম সাহেব অস্বীকার করেছিলেন। এরপর সে পুনরায় স্পেনে চলে যায় এবং সেখান থেকে ভিডিও আপলোড করে নবুওয়তের দাবি করে। গ্রামবাসীরা তার বাড়িতে এবং শ্বশুরবাড়ি ‘লালামোছা’ এলাকায় তাকে না পেয়ে তার খোঁজ চালায়। ১০ নভেম্বর ২০১৮ সালে তার ভাই তার স্ত্রী-পুত্রকে নিয়ে স্পেন পালিয়ে যায়। আহমদ ঈসার ইউটিউব চ্যানেলের নাম ‘নাবা সেভেন’ হিব্রু শব্দ, যার অর্থ ‘ভবিষ্যতের খবর প্রদানকারী’। সে ইহুদিদের দালাল হিসেবে কাজ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইসলামি আকিদা অনুযায়ী, মুহাম্মদ (সা.) সর্বশেষ নবী এবং তার মাধ্যমে নবুওয়তের ধারাবাহিকতা শেষ হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘মুহাম্মদ (সা.) তোমাদের কারোর বাবা নন, তিনি তো আল্লাহর রাসুল ও শেষ নবী।’ রাসুল (সা.)-এর হাদিস অনুযায়ী, তার পরে ত্রিশজন মিথ্যুক আত্মপ্রকাশ করবে, যারা প্রত্যেকেই নিজেকে নবী দাবি করবে। সুরা বাকারার আয়াতগুলোও প্রমাণ করে যে, রাসুল (সা.)-এর পর আর কোনো কিতাব বা নবীর আগমন ঘটবে না। মুহাম্মদ (সা.)-কে সমগ্র বিশ্বের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে, যা কোরআনের দশটি আয়াতের মাধ্যমে প্রমাণিত। তিনি কেয়ামত পর্যন্ত সকল মানুষের নবী। অথচ আহমদ ঈসা তার বইয়ে কোরআনকে কেবল ইতিহাসের কিতাব বলে দাবি করে এবং নিজের নবুওয়ত প্রমাণের জন্য মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানির মতো নাটক সাজায়। তার রচিত ‘আল-কিতাব’ বইটি ভাষা ও ব্যাকরণের দিক থেকে ত্রুটিপূর্ণ এবং এতে কোনো মৌলিক ধর্মীয় ভিত্তি নেই। সে নিজেই তার ভিডিওতে পরস্পরবিরোধী কথা বলেছে। একদিকে সে রাসুল (সা.)-এর নবুওয়ত অস্বীকার করছে, অন্যদিকে কোরআনকে দলিল হিসেবে পেশ করছে। সে তার বইয়ের পিডিএফ সংস্করণ প্রচার করলেও তা কোথায় পাওয়া যাবে বা কোথা থেকে ছাপা হয়েছে, তা স্পষ্ট করেনি। আহমদ ঈসার এই কর্মকাণ্ডকে অনেকে মানসিক ভারসাম্যহীনতা বা আইএসের অনুচর ও ইহুদি সংগঠনের এজেন্টের কাজ বলে মনে করছেন। অনেক মুসলিম তাকে মোনাজারার চ্যালেঞ্জ জানালেও সে লাইভে আসার সাহস করেনি। উলামায়ে কেরাম যেভাবে মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানির মুখোশ উন্মোচন করেছিলেন, সেভাবেই আহমদ ঈসার ভ্রষ্টতাও তুলে ধরছেন। মুসলমানদের এই ধোঁকাবাজ ও ফেৎনাকারীদের থেকে দূরে থাকার এবং মুহাম্মদ (সা.)-ই সর্বশেষ নবী—এই বিশ্বাসে অটল থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। SHARES অন্যান্য বিষয়: আদনান নজির আরাঈআহমদ ঈসাখতমে নবুওয়তধর্মীয় ফেৎনানবুওয়তমিথ্যা দাবিদার