দুদকের তদন্তের মুখে মাইকেল মহিউদ্দিন, প্রতিবাদ জানিয়ে অফিসে হট্টগোল প্রকাশিত: ১০:০১ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৫, ২০২৬ গত ৯ আগস্ট দৈনিক এদিনের প্রথম পাতায় 'মাফিয়া মাইকেলের সম্পদ বেশুমার' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এই প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ রেজিস্ট্রেশন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের (বিআরএসএ) মহাসচিব মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহ দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে আনা বদলি বাণিজ্য, দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সাবেক আইনমন্ত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি নিজেকে একজন সরকারি কর্মকর্তা ও পেশাজীবী সংগঠনের দায়িত্বশীল প্রতিনিধি হিসেবে উল্লেখ করে এই অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। দৈনিক এদিনের প্রতিবেদকের তথ্য অনুযায়ী, সংবাদটি প্রকাশের দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহ যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা পরিচয়ধারী অন্তত ১২ জন ব্যক্তিকে নিয়ে পত্রিকাটির বনানী অফিসে উপস্থিত হন। সেখানে তিনি এবং তার সহযোগীরা সন্ত্রাসী কায়দায় সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক ও নির্বাহী সম্পাদকের কাছে সংবাদ ছাপানোর কারণ জানতে চান এবং হুমকি প্রদান করেন। এই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ও ফটোসাংবাদিকের কাছে ছবি সংরক্ষিত রয়েছে। ঘটনার পরদিন তিনি একা এসে সাংবাদিকদের কাছে কৃতকর্মের জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেও, পরবর্তীতে প্রতিবাদলিপিতে তিনি দৈনিক এদিনের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির পাল্টা অভিযোগ তোলেন। এই আচরণের পর দৈনিক এদিন তার বিষয়ে অধিকতর অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেয়। নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে মাইকেল তার প্রতিবাদলিপিতে দাবি করেন, তিনি ২৯তম বিসিএস থেকে নয়, বরং ২৮তম বিসিএস-এর নন-ক্যাডার প্রার্থী হিসেবে সরকারি বিধিমোতাবেক সাব-রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ পেয়েছেন। তবে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নথিতে তাকে ২৯তম বিসিএস (নন-ক্যাডার) কর্মকর্তা হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া বদলি বাণিজ্য ও সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি জানান, সাব-রেজিস্ট্রারদের বদলি ও পদায়ন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও নীতিমালার ভিত্তিতে হয়। অন্যদিকে, আইন মন্ত্রণালয় ও দুদকের নথিতে তার এসব অনিয়মের প্রমাণ রয়েছে এবং তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সের সহকর্মীদের মধ্যেও এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহ তার নামে ২৯টি ফ্ল্যাটসহ বিভিন্ন স্থানে জমি, ইটভাটা বা মাছের ঘেরের মালিকানার অভিযোগও অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, আত্মীয়স্বজনের সম্পদকে তার নামে উপস্থাপন করা বিভ্রান্তিকর এবং সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের প্রভাব ব্যবহারের অভিযোগটি সম্পূর্ণ কল্পনাপ্রসূত। তিনি আরও বলেন, তার সঙ্গে সাবেক আইনমন্ত্রীর কোনো আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই। তবে দুদকের সূত্র জানিয়েছে, তার নামে-বেনামে থাকা সম্পদের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে এবং ইতিমধ্যে কমিশন এসব সম্পদের সন্ধান পেয়েছে। শিগগিরই তার সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ পাঠানো হবে এবং পরবর্তীতে মামলা দায়েরসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুদকের অনুসন্ধানে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলেও সূত্রটি নিশ্চিত করেছে। SHARES অন্যান্য বিষয়: দুদকদুর্নীতিদৈনিক এদিনমাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহসাব-রেজিস্ট্রার