কনটেইনার পরিবহন বাড়লেও বৈশ্বিক তালিকায় চট্টগ্রাম বন্দর ৬৮তম প্রকাশিত: ৪:৫০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৯, ২০২৬ বিশ্বের ব্যস্ততম ১০০ কনটেইনার বন্দরের তালিকায় টানা দ্বিতীয় বছর ৬৮তম অবস্থানেই রয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। লন্ডনভিত্তিক শিপিংবিষয়ক সংবাদমাধ্যম লয়েডস লিস্টের ‘ওয়ান হানড্রেড পোর্টস ২০২৬’ শীর্ষক তালিকায় এই তথ্য উঠে এসেছে। ২০২৫ সালের কনটেইনার পরিবহনের তথ্যের ভিত্তিতে এই তালিকাটি তৈরি করা হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ৩৪ লাখ ৯ হাজার টিইইউ (২০ ফুট লম্বা একক) কনটেইনার পরিবহন হয়েছে। আগের বছর ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৩২ লাখ ৭৫ হাজার। সেই হিসাবে এক বছরে কনটেইনার পরিবহন ৪ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। তবে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এই প্রবৃদ্ধি সন্তোষজনক নয়, কারণ একই সময়ে বিশ্বের শীর্ষ ১০০ বন্দরের সম্মিলিত কনটেইনার পরিবহন ৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। অর্থাৎ, বৈশ্বিক গড় প্রবৃদ্ধির তুলনায় চট্টগ্রাম বন্দরের প্রবৃদ্ধির হার কম। লয়েডস লিস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রবৃদ্ধি সীমিত থাকলেও এপিএম টার্মিনালস, এমএসসি ও রেড সি গেটওয়ের বড় বিনিয়োগ বাংলাদেশের প্রধান এই বন্দরের ভবিষ্যৎ চিত্র বদলে দিচ্ছে। উল্লেখ্য, এই তালিকাটি বন্দরে সেবার মান বিচার করতে নয়, বরং কনটেইনার পরিবহনের সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে অঞ্চলভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ধারণা পেতে তৈরি করা হয়। বিশ্বের কনটেইনার পরিবহনে বরাবরের মতোই চীনের আধিপত্য অটুট রয়েছে। শীর্ষ ১০ বন্দরের মধ্যে ৬টিই চীনের। তালিকায় সবার শীর্ষে রয়েছে সাংহাই বন্দর, যেখানে ২০২৫ সালে ৫ কোটি ৫০ লাখ একক কনটেইনার পরিবহন হয়েছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে সিঙ্গাপুর ও চীনের নিংবো-ঝুশান বন্দর। দক্ষিণ এশিয়ার বন্দরগুলোর মধ্যে ভারতের মুন্দ্রা বন্দর ২৫তম ও জওহরলাল নেহরু বন্দর ৩০তম অবস্থানে রয়েছে। শ্রীলঙ্কার কলম্বো বন্দর রয়েছে ২৯তম অবস্থানে। পাকিস্তানের করাচি বন্দরের অবস্থান ৮৪তম, যার ফলে করাচির চেয়ে ১৬ ধাপ এগিয়ে থাকলেও প্রতিবেশী প্রধান বন্দরগুলোর তুলনায় চট্টগ্রাম মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছে। দেশের সমুদ্রপথে মোট কনটেইনার পরিবহনের প্রায় ৯৯ শতাংশই চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে সম্পন্ন হয়। ২০০৯ সালে এই তালিকায় চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান ছিল ৯৫তম। গত এক দশকে ২০২০ সালে প্রকাশিত তালিকায় বন্দরটি সর্বোচ্চ ৫৮তম অবস্থানে উঠেছিল। চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি আমিরুল হক বলেন, নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও কনটেইনার পরিবহন বেড়েছে। তিনি মনে করেন, জ্বালানিসংকট কাটিয়ে বন্দর ও কাস্টমসের সেবা বাড়ানো গেলে প্রবৃদ্ধির হার আরও বাড়বে। এছাড়া নতুন টার্মিনাল ও বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে বন্দরের সক্ষমতা বাড়বে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। SHARES অর্থনীতি বিষয়: অর্থনীতিকনটেইনার পরিবহনচট্টগ্রাম বন্দরবাণিজ্যলয়েডস লিস্ট