লোডশেডিংয়ের সুযোগে সারা দেশে ট্রান্সফরমার চুরির হিড়িক

প্রকাশিত: ১২:৩৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬

তীব্র গরম এবং দেশজুড়ে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একশ্রেণির সংঘবদ্ধ চক্র সারা দেশে পল্লী বিদ্যুতের কয়েক হাজার ট্রান্সফরমার চুরি করে নিয়েছে। রাতের আঁধারে বিদ্যুতের খুঁটি থেকে ভারী ট্রান্সফরমার খুলে নিয়ে চোরেরা ভেতরের মূল্যবান তামার তার ও যন্ত্রাংশ হাতিয়ে নিচ্ছে, আর ফাঁকা খোলসটি ফেলে রেখে যাচ্ছে মাঠ বা রাস্তার পাশে। এই চুরির ঘটনা উত্তর ও পূর্বাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়েছে।

চাঁদপুর, জামালপুর, দিনাজপুর, নেত্রকোনা, ঠাকুরগাঁও ও মাগুরায় এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে। কেবল চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলায় দেড় মাসে প্রায় ২৩টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ২-এর মতলব উত্তর জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (চলতি দায়িত্ব) মো. নাঈম জানান, চোরেরা বিদ্যুৎ লাইনের কাজে অভিজ্ঞ বলে মনে হচ্ছে, কারণ সংযোগ থাকা অবস্থায়ই তারা ট্রান্সফরমার খুলে নিচ্ছে। জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. ওয়াহিদুজ্জামান জানান, একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করে নির্জন স্থান থেকে ট্রান্সফরমার চুরি করে এবং পরে তা ভাঙারিপট্টিতে বিক্রি করছে। এ ঘটনায় থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে এবং গ্রাহক সচেতনতায় মাইকিং ও বিশেষ সভার আয়োজন করা হচ্ছে।

দিনাজপুরে গত এক বছরে প্রায় চার শতাধিক ট্রান্সফরমার চুরির রেকর্ড রয়েছে। চোরেরা মূলত গভীর নলকূপ, স-মিল, রাইস মিল ও পোলট্রি খামারের মতো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ১০ থেকে ২৫ কেভিএ বা তার চেয়ে বড় ট্রান্সফরমারগুলো টার্গেট করছে। ভুক্তভোগী গ্রাহক ও কৃষকদের অভিযোগ, চুরির পর নতুন সংযোগ পেতে তাদের মাসের পর মাস ঘুরতে হয় এবং অনেকটা অর্থ ব্যয় করতে হয়, যা তাদের আর্থিকভাবে সর্বস্বান্ত করছে।

স্থানীয় ভুক্তভোগী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাংশের মতে, খুঁটির ওপর থেকে ভারী ট্রান্সফরমার নামানো সাধারণ চোরের কাজ নয়। লোডশেডিংয়ের সময় সম্পর্কে আগে থেকে তথ্য না থাকলে এমন নিখুঁত চুরি অসম্ভব, যার পেছনে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অসাধু কর্মচারী বা লাইনম্যানদের যোগসাজশ থাকতে পারে। তবে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, চোরেরা পেশাদার এবং তারা লোডশেডিংয়ের অন্ধকারের সুযোগ নিচ্ছে।

বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের বিতরণ ও পরিচালন বিভাগের সদস্য (চলতি দায়িত্ব) মো. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, তাদের কাছে এ সংক্রান্ত অনেক অভিযোগ রয়েছে এবং কেন্দ্রীয়ভাবে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এদিকে, পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে যে আন্তঃজেলা চক্র ও অবৈধ ভাঙারি দোকানগুলোর ওপর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের ট্রান্সফরমার সুরক্ষায় লোহার খাঁচা বা বিশেষ লকিং ব্যবস্থা ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছে।