পুঁজিবাজারে আসতেই হবে বহুজাতিক কোম্পানিকে, হুঁশিয়ারি বিএসইসি চেয়ারম্যানের

প্রকাশিত: ৮:৩৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬

বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান। শুক্রবার ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরামের (সিএমজেএফ) সদস্যদের জন্য আয়োজিত ‘ক্যাপিটাল মার্কেট প্রোডাক্ট অ্যান্ড রুলস’ বিষয়ক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মাসুদ খান বলেন, দেশের বড় দেশীয় ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আনা না গেলে বাজারের কাক্সিক্ষত উন্নয়ন সম্ভব নয়। বিএসইসি আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে কয়েকটি ফ্ল্যাগশিপ কোম্পানিকে বাজারে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এসব কোম্পানিকে আগে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে বাজারে আসার সুযোগ ও উৎসাহ দেওয়া হবে। তবে তারা না এলে জনস্বার্থে আইনগত ক্ষমতা প্রয়োগের পথও খোলা রয়েছে। এ লক্ষ্যে ‘পাবলিক ইন্টারেস্ট কোম্পানি-পিআইসি’র সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হবে বলেও তিনি জানান।

তালিকাভুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, এর ফলে কোম্পানিগুলো করপোরেট ইমেজ অর্জনের পাশাপাশি বাজারমূল্য নির্ধারণ করতে পারে, যা অধিগ্রহণ বা একীভূতকরণে সহায়ক হয়। এছাড়া পারিবারিক ব্যবসার ক্ষেত্রে মালিকদের বিরোধ এড়াতে এবং অংশীদারদের সহজে ব্যবসা থেকে বের হওয়ার সুযোগ তৈরিতে তালিকাভুক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখে।

বড় কোম্পানিকে বাজারে আনতে সরাসরি তালিকাভুক্তি ও হাইব্রিড পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রচলিত আইপিও প্রক্রিয়ার ধীরগতি কমাতে সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ বাড়ানো হচ্ছে। এছাড়া কোম্পানিগুলো নতুন মূলধন সংগ্রহ ও বিদ্যমান শেয়ার তালিকাভুক্ত করতে হাইব্রিড ব্যবস্থা ব্যবহার করতে পারবে। আইপিও প্রক্রিয়া সহজ করতে ‘এক্সটেন্ডেড অডিট’ চালুর কথাও জানান তিনি, যেখানে আর্থিক বিবরণীর পাশাপাশি কোম্পানির সম্পদ, যন্ত্রপাতি, মজুতপণ্য ও পাওনা তথ্যের বাস্তবতা যাচাই করা হবে। এতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) আইপিও যাচাই-প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হবে।

বাজারের টেকসই উন্নয়নে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে মাসুদ খান বলেন, প্রভিডেন্ট ফান্ড ও বীমা কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজার ও করপোরেট বন্ডে বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। উন্নত দেশের মতো বাংলাদেশেও পেনশন ফান্ড ও বীমা কোম্পানিগুলোকে বড় বিনিয়োগকারী হিসেবে বাজারে আনার ব্যবস্থা করা হবে।

দায়িত্ব নেওয়ার পর ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, এর ফলে আন্তর্জাতিক সূচক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এমএসসিআই বাংলাদেশের বাজার নিয়ে বিশেষ ব্যবস্থা প্রত্যাহারের পথে গেছে। এমএসসিআই জানিয়েছে, নভেম্বর ২০২৬ থেকে বাংলাদেশের সূচকের নিয়মিত পর্যালোচনা ও করপোরেট ইভেন্ট বাস্তবায়ন আবার শুরু হবে। এছাড়া ডিএসইর ক্ষমতায়ন, বাজার তদারকি ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) সার্ভেইলেন্স ব্যবস্থা চালু এবং বন্ড বাজারের উন্নয়নে মূল বোর্ডে তালিকাভুক্তির ফি কমানোর কাজ চলছে বলেও তিনি জানান।