ডিমের পিস ১৪ টাকা, দামে লাগামহীন মাছ ও সবজিও

প্রকাশিত: ৩:০০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬

রাজধানীর বাজারে নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতিতে নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ ক্রেতাদের। সপ্তাহের ব্যবধানে ডিম, মাছ ও সবজির দাম নতুন করে বৃদ্ধি পাওয়ায় সীমিত আয়ের মানুষের জন্য বাজেট মেলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি ডিম কিনতে ক্রেতাদের এখন ১৪ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। ডিম বিক্রেতা রাজিব হোসেন জানিয়েছেন, ফার্মের মুরগির ডিম প্রতি হালি ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এবং দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই। আগের মতো এক ডজন কিনলে দুই টাকা ছাড় পাওয়ার সুযোগও এখন আর নেই; প্রতি ডজন ১৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সবজির বাজারেও অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে। অধিকাংশ সাধারণ সবজি যেমন বেগুন, করলা, বরবটি, ঢ্যাঁড়স, পটল ও কাঁকরোল কেজি প্রতি ৮০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শীতের আগাম সবজি শিম বাজারে আসলেও এর দাম ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি। এছাড়া কাঁচা মরিচের দাম গত সপ্তাহের ১২০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৫০ থেকে ৭০ টাকা এবং কচুরমুখি ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে তুলনামূলক কম দামে পেঁপে ৪০ টাকা এবং শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। দেশি শসা ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হয়। শাকের দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ডাঁটা শাক ৩০ থেকে ৪০ টাকা, পুঁইশাক ৩০ থেকে ৫০ টাকা, লাউ শাক ৪০ থেকে ৬০ টাকা, কচু শাক ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং লাল শাক ও কলমি শাক ১০ টাকা আঁটি দরে বিক্রি হচ্ছে। নাইম মিয়া নামের এক ক্রেতা জানান, ৮০ টাকার নিচে কোনো সবজি পাওয়া যাচ্ছে না, যা স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য অসহনীয়।

মাছের বাজারেও দামের চিত্র একই। আকার ও মানের ওপর ভিত্তি করে রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা এবং বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং চাষের কই ৩০০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া শোল ৭০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং ট্যাংরা ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছ ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং মাঝারি আকারের রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে পাওয়া যাচ্ছে। রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে হাজারের বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে। রায়ের বাজারের বিক্রেতা ইমরান মিয়ার মতে, সরবরাহ কম থাকা এবং বড় মাছের চাহিদা বেশি থাকায় দামের এই তারতম্য দেখা দিচ্ছে। তবে মুরগি ও গরুর মাংসের দাম আগের মতোই রয়েছে; ব্রয়লার ১৯০ টাকা, সোনালি ৩২০ টাকা এবং গরুর মাংস ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।