রোহিঙ্গাদের জাতিগত পরিচয় ও অস্তিত্ব অস্বীকার করলো মিয়ানমার প্রকাশিত: ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ মিয়ানমার তাদের দেশে বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও একই সঙ্গে রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর স্বতন্ত্র জাতিগত পরিচয় ও অস্তিত্বকে সরাসরি অস্বীকার করেছে। মালয়েশিয়া থেকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতির প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের এই পুরনো অবস্থান নতুন করে পুনর্ব্যক্ত করেছে। মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি এমন একটি জাতিগত পরিচয়কে বোঝায়, যার কোনো অস্তিত্ব মিয়ানমারে কখনোই ছিল না। তারা আরও দাবি করেছে যে, রোহিঙ্গারা মূলত বাংলাদেশ থেকে চলে যাওয়া অভিবাসীদের বংশধর। এই দাবির কারণেই দেশটির কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি ব্যবহার করতেও অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। এছাড়া, বৃহস্পতিবার বিভিন্ন দেশে পালিত ‘রোহিঙ্গা গণহত্যা স্মরণ দিবস’-এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে মিয়ানমার সরকার। তবে একই বিবৃতিতে মিয়ানমার জানায়, বাংলাদেশ ও বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার ব্যবস্থা করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের মধ্যে গভীর উদ্বেগ রয়েছে। সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হলে রোহিঙ্গারা আবারও চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হতে পারেন। ২০১৭ সাল থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম শরণার্থী শিবিরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা চললেও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় এখন পর্যন্ত কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। অন্যদিকে, মালয়েশিয়াতেও প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী হিসেবে অবস্থান করছেন। গত জুলাই মাসে মালয়েশিয়া জানিয়েছিল, মিয়ানমার ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রথম ধাপে সেপ্টেম্বরের শেষদিকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মিয়ানমারের নাগরিককে স্বেচ্ছায় ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে, যদিও এই তালিকায় ঠিক কতজন রোহিঙ্গা রয়েছেন তা এখনো স্পষ্ট নয়। SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: প্রত্যাবাসনবাংলাদেশমালয়েশিয়ামিয়ানমাররোহিঙ্গা