সৌদির নিরাপত্তায় সহায়ক ভূমিকাতেই থাকছে পাকিস্তান, সরাসরি যুদ্ধে না জড়ানোর নীতি

প্রকাশিত: ১১:৫২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৯, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়া সংঘাত এবং রিয়াদের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার নতুন সমীকরণের পটভূমিতে পাকিস্তানের সামরিক অবস্থান নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। ২৯ অক্টোবর ২০২৬ (2026) প্রকাশিত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ডিপ্লোম্যাট’-এর এক বিশ্লেষণে জানানো হয়েছে, সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সে দেশের প্রতিশ্রুতি থাকলেও পাকিস্তান সরাসরি কোনো স্থলযুদ্ধে জড়াতে আগ্রহী নয়। বিশেষ করে হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইসহ অন্যান্য সংঘাতময় পরিস্থিতিতে নিজেদের ভূমিকা সহায়ক কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে চাইছে ইসলামাবাদ।

সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রতিরক্ষা বিষয়ক সহযোগিতার ইতিহাস বহু পুরোনো। ১৯৬০-এর দশক থেকেই পাকিস্তানি সামরিক কর্মকর্তারা সৌদি সেনাসদস্যদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ সেবা দিয়ে আসছেন। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৮২ সালে দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিভিত্তিক রূপ লাভ করে। পরবর্তীতে উপসাগরীয় যুদ্ধের সময়েও সৌদি আরবের সার্বিক নিরাপত্তায় সেনা মোতায়েন করেছিল পাকিস্তান।

তবে রিয়াদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক যোগাযোগ থাকা সত্ত্বেও সব অভিযানে সৌদি আরবের পক্ষে সরাসরি যুদ্ধ করার নীতি গ্রহণ করেনি ইসলামাবাদ। ২০১৫ সালে ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের যৌথ অভিযানে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব উঠলে পাকিস্তানের পার্লামেন্ট নিরপেক্ষ অবস্থান নেওয়ার পক্ষে সিদ্ধান্ত দেয়। এর পর সৌদি আরবে পাকিস্তানি সেনা পাঠানো হলেও তাদের মূল কাজ প্রশিক্ষণ, সামরিক পরামর্শ এবং প্রতিরক্ষামূলক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ রয়েছে।