শিরোইলের বক্সিংপাড়া: রিং ছাড়াই স্বপ্ন বুনছেন বক্সাররা

প্রকাশিত: ৯:৩০ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬

পল্টনের মোহাম্মদ আলী বক্সিং স্টেডিয়ামে এখন চলছে কঠোর অনুশীলন। আসন্ন এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত বক্সার সেলিম হোসেন, উৎসব আহমেদ এবং তাদের অনুশীলন সঙ্গী মোহাম্মদ বেলাল ও আবু তালহা। এই চার বক্সারের লড়াইয়ের মূল শিকড় রাজশাহীর শিরোইল কলোনিতে, যা স্থানীয়ভাবে এখন 'বক্সিংপাড়া' নামে পরিচিত।

এই বক্সিংপাড়ার ইতিহাস প্রায় চার দশকের পুরনো। ১৯৮৬ সালে সিউল এশিয়ান গেমসের ৮১ কেজি ওজন শ্রেণিতে ব্রোঞ্জপদক জিতে ইতিহাস গড়েছিলেন রাজশাহীর তালাইমারীর বাসিন্দা মোশাররফ হোসেন। বাংলাদেশের বক্সিং ইতিহাসে ব্যক্তিগত ইভেন্টে এটিই একমাত্র পদক। এই সাফল্যের অনুপ্রেরণায় শিরোইলের তরুণদের মধ্যে বক্সিংয়ের প্রতি প্রবল আগ্রহ ও আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়।

বর্তমানে শিরোইলে ছোট-বড় মিলিয়ে পাঁচটি ক্লাব ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র রয়েছে। দেশের বিভিন্ন সার্ভিসেস দল, বিকেএসপি এবং জাতীয় দলে এখান থেকে আসা ৩০ জনেরও বেশি বক্সার খেলছেন। বিশেষ করে বাংলাদেশ আনসার বক্সিং দলেই রয়েছেন শিরোইলের ১০ জন বক্সার।

বক্সার সেলিম হোসেনের যাত্রাটি অবশ্য সহজ ছিল না। শুরুতে বক্সিংকে স্রেফ মারামারি মনে করে তার মা খেলতে দিতে রাজি ছিলেন না, কিন্তু সেলিমের অদম্য আগ্রহের কাছে তিনি হার মানেন। ২০১৫ সালে জাতীয় ক্যাম্পে সুযোগ পাওয়া সেলিম ২০১৯ সাল থেকে জাতীয় দলের নিয়মিত সদস্য। ২০২২ এশিয়ান গেমসের কোয়ার্টার ফাইনালে হারের আক্ষেপ কাটিয়ে এবার তিনি পদক নিয়ে ফিরতে চান।

অন্যদিকে, উৎসব আহমেদের অনুপ্রেরণা ছিলেন তার মামা জুয়েল আহমেদ, যিনি ২০১০ সাফ গেমসে সোনা জিতেছিলেন। মামার সাফল্য দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে ২০১৭ সালে জুনিয়র লেভেলে বক্সিং শুরু করেন উৎসব। গত বছরের এপ্রিলে ভুটানে অনুষ্ঠিত চার জাতির আন্তর্জাতিক বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জেতা উৎসব এবারই প্রথম এশিয়ান গেমসে অংশ নিচ্ছেন এবং পদক জয়ের লক্ষ্য নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

এত সাফল্য ও ঐতিহ্য থাকার পরও শিরোইল কলোনির সবচেয়ে বড় আক্ষেপ হলো সেখানে এখনো কোনো স্থায়ী বক্সিং রিং নেই। চারটি দড়ি টানানো অস্থায়ী রিংয়েই নবাগত থেকে শুরু করে অভিজ্ঞ বক্সাররা তাদের ঘাম ঝরান। সুযোগ-সুবিধার এই অভাব সত্ত্বেও সেখানকার বক্সারদের স্বপ্ন ও লড়াই থামেনি।