বিচারপতি সংকটে আপিল বিভাগ অকার্যকর হয়ে পড়েছে: মাহবুব উদ্দিন খোকন প্রকাশিত: ৮:৪৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বিচারপতি সংকটের কারণে অনেকটা অকার্যকর হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। বুধবার সুপ্রিম কোর্ট বার ভবনের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আপিল বিভাগে বিচারপতির সংখ্যা কমে যাওয়ায় তীব্র বেঞ্চ সংকট তৈরি হয়েছে। এর ফলে জরুরি মামলাগুলো নির্ধারিত সময়ে শুনানির জন্য তালিকায় আসছে না এবং শুনানি করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ বিচারপ্রার্থীরা। আদালতে নিজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে ব্যারিস্টার খোকন বলেন, তিনি এখানে ৩৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্র্যাকটিস করছেন। বর্তমান পরিস্থিতি উল্লেখ করে তিনি জানান, আপিল বিভাগে মূলত কোনো বেঞ্চ বা কোর্ট নেই। আগে যেখানে ১১ জন বিচারপতি ছিলেন, সেখানে তা কমে চারজনে নেমেছিল। পরবর্তীতে আরও একজন যুক্ত হয়ে বর্তমানে বিচারপতির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচজনে এবং আরও একজন নতুন বিচারপতি আসছেন। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগ যদি এভাবে অকার্যকর হয়ে থাকে, তবে এর নেতিবাচক প্রভাব পুরো বিচার ব্যবস্থার ওপর পড়বে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি উল্লেখ করেন, এই সংকট নিয়ে আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও অসন্তোষ রয়েছে। এটি আইনজীবীদের সাধারণ সেন্টিমেন্ট। আদালতের ভেতরে ও বাইরে আইনজীবীরা যে আলোচনা করছেন, তিনি সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি হিসেবে কেবল সেই কথাই তুলে ধরছেন এবং এটি বলা তাঁর দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠার পর ১৯৪৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত কেউ তাঁর মতো পরপর ১১ বার আইনজীবী সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হননি। এছাড়া তিনি বার কাউন্সিলেও তিনবার নির্বাচিত হয়ে ৯ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। বিচার বিভাগের প্রতি গভীর প্রতিশ্রুতি থেকেই তিনি ন্যায়বিচারের প্রতিবন্ধকতা হিসেবে মামলা নিষ্পত্তির এই দীর্ঘসূত্রতার বিরুদ্ধে কথা বলছেন। প্রধান বিচারপতির ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে ব্যারিস্টার খোকন বলেন, বর্তমান প্রধান বিচারপতি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মূলত এই অচলাবস্থা বা জট সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু সংকট নিরসনে তাঁর পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের কর্মপরিবেশের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বার কাউন্সিল মূলত প্রধান বিচারপতির অধীনেই পরিচালিত হচ্ছে। আইন সংশোধনের পর তাঁরাই এটি চালাচ্ছেন এবং হাজার হাজার আইনজীবীকে সনদ দেওয়া হচ্ছে। অথচ এই আইনজীবীদের বসার বা কাজ করার ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা ও পরিবেশ নেই। অন্যদিকে বিচারপতিদের বসার জন্য সুপ্রিম কোর্টে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এই বিষয়ে দেখা করতে গেলেও মাস্টারপ্ল্যান করার কথা বলা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। সম্প্রতি আপিল বিভাগে এক জুনিয়র আইনজীবীকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করার ঘটনার কঠোর সমালোচনা করেন বার সভাপতি। তিনি বলেন, একজন আইনজীবী ভুল করতেই পারেন, কিন্তু সেজন্য তাকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করে দেওয়া নজিরবিহীন ও অত্যন্ত দুঃখজনক। একজন জুনিয়র আইনজীবী এত টাকা কোথা থেকে দেবেন এবং এই ঘটনার পর তিনি কীভাবে সমাজে মুখ দেখাবেন বা মক্কেলদের মুখোমুখি হবেন, সেই প্রশ্ন তোলেন খোকন। তিনি জানান, ওই ঘটনার সময় তিনি নিজে অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছিলেন। বিচার বিভাগকে সচল করতে পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যারিস্টার খোকন বলেন, সুপ্রিম কোর্টে পরবর্তীতে কী ধরনের এবং কত সময়ের মধ্যে পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তা নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে আলোচনা চলছে। আইনজীবীরা যেভাবে চাইবেন, সে অনুযায়ী পরবর্তী কর্মসূচি চূড়ান্ত করে পরে জানানো হবে। এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতের সাফাই গেয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন। তিনি এখানে কিছুই নন এবং তার এ ধরনের বক্তব্যের কোনো ভিত্তি নেই। SHARES অন্যান্য বিষয়: আইনজীবী সমিতিআপিল বিভাগপ্রধান বিচারপতিবিচারপতি সংকটমাহবুব উদ্দিন খোকনসুপ্রিম কোর্ট