৫ বছরের মধ্যে কৃষকদের সৌরবিদ্যুৎ চালিত পাম্প দেবে সরকার: সংসদে প্রধানমন্ত্রী প্রকাশিত: ৮:৪৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সেচ কাজে ব্যবহৃত সব ডিজেলচালিত পানির পাম্পের পরিবর্তে কৃষকদের সৌরবিদ্যুৎ চালিত পাম্প দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য তাজউদ্দীন খানের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই ঘোষণা দেন। জামায়াতে ইসলামীর এই সংসদ সদস্য সেচ কাজে ডিজেল ইঞ্জিনের বদলে কৃষকদের বিনামূল্যে সোলার বিদ্যুৎ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা তা জানতে চেয়েছিলেন। জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের যেসব এলাকায় বর্তমানে ডিজেল দিয়ে পানির পাম্প চালানো হয়, সেগুলোকে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুতের আওতায় নিয়ে আসা হবে। সংসদ অধিবেশনটি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকেল সাড়ে তিনটায় শুরু হয়, যার প্রথম ৩০ মিনিট ছিল প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব। এদিন প্রধানমন্ত্রীর জন্য আটটি তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন নির্ধারিত ছিল, যার মধ্যে তিনি তিনটি প্রশ্ন এবং সাতটি সম্পূরক প্রশ্নের উত্তর দেন। নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের প্রসারে সরকারের বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এজন্য ২০২৬ থেকে ২০৩০ মেয়াদের জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র প্রণয়ন করা হয়েছে। এই লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে অন্তত ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে নিশ্চিত করা হবে। ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে রয়েছে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫,৫০০ মেগাওয়াট, ভূমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৪,৫০০ মেগাওয়াট এবং বায়ু, বর্জ্য, পানিবিদ্যুৎ, ভাসমান সোলার ও অ্যাগ্রিভোলটেইক্সের মতো অন্যান্য প্রযুক্তি থেকে ৪৫০-৫৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন। নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনে উৎসাহ দিতে সরকার সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারি ও স্ট্রাকচারের মতো প্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর শুল্ক ছাড় দিয়েছে। শর্তসাপেক্ষে এসব পণ্যের কাস্টমস ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, আগাম কর এবং ২ শতাংশের অতিরিক্ত অগ্রিম আয়কর মওকুফ করা হয়েছে। এছাড়া গত ১ সেপ্টেম্বর ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সর্বোচ্চ ব্যয় প্রতি ইউনিটে ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ প্রণোদনা হিসেবে উৎপাদন ব্যয়ের ওপর ২০ শতাংশ মুনাফা ও ১১.২৫ শতাংশ প্রিমিয়ামসহ প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১০ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, নেট মিটারিং নির্দেশিকা ২০২৫ অনুযায়ী, যেসব গ্রাহক আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করে নিজেদের ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করবেন, তারা পরবর্তী ৩ বছর (২৮ ফেব্রুয়ারি ২০৩০ পর্যন্ত) প্রতি ইউনিটের জন্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে মূল্য পাবেন। নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে সরকার ইতিমধ্যে বেশ কিছু নীতিমালা তৈরি করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা ২০২৫’, ‘পিপিপি পদ্ধতিতে সরকারি সংস্থার মালিকানাধীন ভূমিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প উন্নয়ন নির্দেশিকা ২০২৬’, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে বেসরকারি অংশগ্রহণ বৃদ্ধি নীতিমালা ২০২৫’, ‘নেট মিটারিং গাইডলাইন ২০২৫’, ‘জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি ২০২৫’, ‘বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবসায়িক মডেল’, ‘অনশোর উইন্ড গাইডলাইন’ এবং ‘কার্বন ক্রেডিট প্রক্রিয়াকরণ বিষয়ক গাইডলাইন’। সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরীর অন্য একটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সৌরবিদ্যুতের ব্যাটারি ব্যবহারের বিষয়টি স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, সোলার স্টোরেজের জন্য বর্তমানে লিড ও লিথিয়াম—এই দুই ধরণের ব্যাটারি ব্যবহৃত হচ্ছে। এর মধ্যে লিড ব্যাটারিতে এসিড ব্যবহারের কারণে তা পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর, যা সরকার নিরুৎসাহিত করতে চায়। অন্যদিকে লিথিয়াম ব্যাটারি পরিবেশবান্ধব হওয়ায় সরকার এটি ব্যবহারে উৎসাহিত করছে এবং দেশে লিথিয়াম ব্যাটারি তৈরির কারখানা স্থাপনে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের ক্ষেত্রে লিথিয়াম ব্যাটারির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার চিন্তাভাবনা সরকারের রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। SHARES রাজনীতি বিষয়: কৃষিজাতীয় সংসদতারেক-রহমাননবায়নযোগ্য জ্বালানিসেচ পাম্পসৌরবিদ্যুৎ