ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আজ

প্রকাশিত: ১১:০০ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে আজ রায় ঘোষণা করা হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় দেবেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

ওবায়দুল কাদের ছাড়াও মামলার অন্য আসামিরা হলেন—আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। আসামিদের কাউকেই গ্রেপ্তার করা সম্ভব না হওয়ায় তাদের পলাতক দেখিয়েই বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সহিংসতায় উসকানি, অর্থের জোগান এবং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনের চেষ্টা করেছিলেন। প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় উল্লেখ করেন যে, ওবায়দুল কাদের দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ‘ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে প্রতিরোধ গড়ে তোলো’ বলে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। গত ১৭ আগস্ট যুক্তিতর্ক সম্পন্ন হওয়ার পর ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রাখে।

আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োগপ্রাপ্ত আইনজীবীরা শুনানিতে অংশ নিয়েছেন। ওবায়দুল কাদের, বাহাউদ্দিন নাছিম ও মোহাম্মদ আলী আরাফাতের আইনজীবী এম হাসান ইমাম দাবি করেছেন, তার মক্কেলরা কমান্ডিং পজিশনে ছিলেন না এবং কাউকে হত্যার নির্দেশ দেননি। অন্যদিকে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের চার নেতার পক্ষে আইনজীবী ইশরাত জাহান দাবি করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন দমনে তার মক্কেলদের নাম আসেনি। তিনি আরও জানান, ভিডিওতে আসামিদের হাতে লাঠিসোঁটা থাকার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং তারা খালাস পাওয়ার যোগ্য।

গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের অভিযোগ আমলে নিয়ে ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয় এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৯ জন সাক্ষী এ মামলায় ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন। প্রথম দফায় ২৭ এপ্রিল সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর প্রসিকিউশনের আবেদনে ২৬ জুলাই সাংবাদিক আশরাফ কায়সারের অতিরিক্ত জবানবন্দি নেওয়া হয় এবং ২ আগস্ট তদন্ত কর্মকর্তার পুনরায় জেরা ও সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে সাক্ষ্য পর্ব চূড়ান্তভাবে শেষ হয়।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করবেন। প্যানেলের দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

গত ১২ অগাস্ট রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি আসামিদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ ‘প্রমাণিত হয়েছে’ দাবি করে তাদের সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান।