উপসাগরীয় নেতাদের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক ও হুতিদের সঙ্গে মার্কিন গোপন আলোচনা প্রকাশিত: ১১:০২ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ইরান যুদ্ধের পরবর্তী কৌশল নির্ধারণে উপসাগরীয় অঞ্চলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সময়ে ওমানে ইরানপন্থী হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। জানা গেছে, ওই বৈঠকে হুতিরা মার্কিন জাহাজে কোনো ধরনের হামলা না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই কূটনৈতিক তৎপরতা ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর (2026-09-16) প্রকাশিত প্রতিবেদনে জেডি ভ্যান্স (JD-Vance, p7vatjf7) এবং ইয়েমেন-সৌদি-ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ (YEMEN-SAUDI-IRAN-US-ISRAEL-WAR-152709, ywfjod9j) সংক্রান্ত নথিতে এসব তথ্য উঠে আসে। এছাড়া ২০২৬ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর (2026-09-14, gya6mttv) ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈশ্বিক নীতি ও তাঁর প্রশাসনের নানা পদক্ষেপের খবরও আলোচনায় আসে। সৌদি আরবের আজকের খবর বা Saudi Arabia News Bangla এবং ওমান ও ইয়েমেনের সর্বশেষ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ট্রাম্পের এই বৈঠকগুলো অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে ট্রাম্প ১৯৪৬ সালের ১৪ জুন নিউইয়র্কের কুইন্সে জন্মগ্রহণ করেন। ২০১৭ সালের ২০ জানুয়ারি তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন। তবে রাজনীতিতে আসার বহু আগে থেকেই মার্কিন সমাজে তিনি একজন প্রভাবশালী ধনকুবের হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর জীবনের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনোদন জগতে। ২০১৫ সালের ১৫ জুন হঠাৎ করেই কোটিপতি এই ব্যবসায়ী প্রেসিডেন্ট পদে নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করেন। শুরুতে অনেকেই তাঁর এই ঘোষণাকে উপহাস করলেও ট্রাম্প তাঁর লক্ষ্যে অনড় ছিলেন। অবশেষে ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বরের নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ হিলারি ক্লিনটনকে নাটকীয়ভাবে পরাজিত করে তিনি হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করেন। পারিবারিক জীবনে পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে ট্রাম্প চতুর্থ। তাঁর বাবা ফ্রেড ট্রাম্প ছিলেন নিউইয়র্কের আবাসন ব্যবসায়ী এবং মা মেরি ট্রাম্প ছিলেন স্কটিশ বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। চঞ্চল স্বভাবের কারণে ট্রাম্পকে ছোটবেলায় নিউইয়র্ক মিলিটারি অ্যাকাডেমি স্কুলে ভর্তি করা হয়েছিল। ১৯৬৮ সালে তিনি পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়ারটন স্কুল থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর বাবার ব্যবসায় যোগ দিয়ে একেবারে সাধারণ পদ থেকে কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে পৈতৃক ব্যবসার ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটিয়ে হোটেল, বহুতল ভবন, গলফ কোর্স ও ক্যাসিনোসহ বিশাল ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন তিনি। এছাড়া ট্রাম্প দীর্ঘদিন মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতার স্পনসর ছিলেন এবং রিয়্যালিটি শো 'দ্য অ্যাপ্রেনটিস' ও রেসলিং ম্যাচ উপস্থাপনা করে ব্যাপক তারকাখ্যাতি লাভ করেন। ব্যক্তিগত জীবনে ট্রাম্প তিনবার বিয়ে করেছেন এবং তিনি পাঁচ সন্তানের জনক। ১৯৯২ সালে তাঁর প্রথম স্ত্রী চেক মডেল ইভানার সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়। ১৯৯৩ সালে তিনি মার্লা ম্যাপলসকে বিয়ে করেন এবং ১৯৯৯ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ ঘটে। পরবর্তীতে ২০০৫ সালে তিনি মডেল মেলানিয়াকে বিয়ে করেন, যিনি তাঁর ফার্স্ট লেডি হন। ব্যবসায়িক জীবনে কয়েকবার নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করা ট্রাম্প বহু মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী হিসেবে ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণায় রাশিয়া ও দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি তাঁর প্রকাশ্য অনুরাগ এবং অভিবাসী, মুসলমান, নারী ও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়। তাঁর বিরুদ্ধে অশালীন আচরণ ও যৌন হয়রানির অভিযোগও ওঠে। তবে সব বিতর্ক পেরিয়ে তিনি ১৬ জন প্রার্থীকে পরাজিত করে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করেন এবং নির্বাচনে জয়ী হন। অবশ্য তাঁর জয়ের পেছনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত চলছে। প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরও মুসলিম নিষেধাজ্ঞা জারি করা, গণমাধ্যমের সঙ্গে বিরোধে জড়ানো এবং টুইটারে নানা মন্তব্য করে তিনি প্রতিনিয়ত আলোচনার কেন্দ্রে থাকেন। তাঁর মানসিক সুস্থতা নিয়েও নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে। অভ্যন্তরীণ নীতির মতো তাঁর গোলমেলে বৈশ্বিক নীতির কারণে বিশ্বকে ট্রাম্পের ভার বইতে হচ্ছে। প্রশাসন চালাতে গিয়ে প্রথম বছরই তাঁর বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা বিদায় নেন, যা তাঁর প্রশাসনের গলদঘর্ম অবস্থা প্রকাশ করে। নানা বিতর্কের মধ্যেও তিনি ইতিমধ্যে দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচনে লড়ার ইচ্ছার কথা জানিয়ে রেখেছেন। prothomalo-bangla/2026-09-14/gya6mttv/Donald-Trump.jpg SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: ইরান যুদ্ধউপসাগরীয় বৈঠকওমান বৈঠকডোনাল্ড ট্রাম্পমার্কিন যুক্তরাষ্ট্রহুতি বিদ্রোহী