জাদু-টোনা সম্পর্কে ইসলাম কী বলে? জানুন বিস্তারিত

প্রকাশিত: ১০:০০ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬

জাদু-টোনা বা ব্ল্যাক ম্যাজিক শব্দগুলো সাধারণ মানুষের কাছে রহস্য ও অদৃশ্য ভয়ের এক নাম। অনেকে একে ক্ষমতার উৎস মনে করলেও ইসলামে এটিকে কেবল কল্পকাহিনি হিসেবে দেখা হয়নি। বরং ইসলামে জাদু-টোনাকে একটি বাস্তব, ভয়াবহ এবং স্পষ্টভাবে হারাম বা নিষিদ্ধ কাজ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারার ১০২ নম্বর আয়াতে জাদুর অস্তিত্বের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, সুলায়মান (আ.)-এর রাজত্বকালে শয়তানরা মানুষকে জাদু শিক্ষা দিত এবং বাবিলে হারুত ও মারুত নামক দুজন ফেরেশতার ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছিল, তা দিয়ে তারা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ সৃষ্টি করত। তবে আল্লাহর অনুমতি ছাড়া তারা কারও ক্ষতি করতে পারত না। এই আয়াতটি প্রমাণ করে যে, জাদুর অস্তিত্ব বাস্তব হলেও তা আল্লাহর নিয়ন্ত্রণের বাইরে নয়।

ইসলামে জাদু করা বা করানোকে ঈমান বিধ্বংসী কাজ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) সাতটি ধ্বংসাত্মক কাজ থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন, যার মধ্যে জাদু অন্যতম। জাদুর মাধ্যমে অন্যকে ক্ষতি করার প্রচেষ্টায় শয়তানের সাহায্য নেওয়া হয়, যা ইসলামি আকিদার পরিপন্থি। অনেক ক্ষেত্রে এসব কাজের জন্য কোরআন অবমাননা বা কবরস্থানে অপবিত্র আচরণের মতো কুফরি কাজ করতে হয়, যা সরাসরি শিরকের শামিল। ইবনে কুদামা (রহ.)-সহ ওমর (রা.), ওসমান বিন আফফান (রা.), ইবনে আমর বিন আব্দুল আজিজ (রহ.), আবু হানিফা (রহ.) এবং ইমাম মালেক (রহ.)-এর মতো বিশিষ্ট আলেমদের মতে, জাদুকরের শাস্তি হলো মৃত্যুদণ্ড। ইমাম মালেক (রহ.)-এর মতে, কোনো মুসলমান জাদুকর কুফুরি কালামের মাধ্যমে জাদু করলে তাকে হত্যা করা হবে এবং তার তওবা গ্রহণীয় হবে না, কারণ এটি আল্লাহর নির্দেশকে সরাসরি লঙ্ঘন করে।

ইসলাম শুধু জাদুর ভয়াবহতা বর্ণনা করেই থেমে থাকেনি, বরং এর প্রতিকারের উপায়ও বাতলে দিয়েছে। বৈধ ঝাড়ফুঁক বা রুকইয়ার মাধ্যমে জাদুর প্রভাব থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। রাসুল (সা.) নিজে কোরআনের আয়াত দ্বারা চিকিৎসা করতেন এবং সাহাবিদেরও তা শিক্ষা দিয়েছেন। আয়াতুল কুরসি, সুরা ফালাক, সুরা নাস এবং সুরা ফাতিহা পাঠের মাধ্যমে একজন মুমিন নিজেকে জাদুর প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রাখতে পারে। তবে জাদুর ভয়ে আতঙ্কিত না হয়ে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখা এবং শিরকমূলক যেকোনো কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকাই একজন মুসলমানের প্রধান দায়িত্ব। এটি দুনিয়া ও আখেরাত ধ্বংসকারী কাজ বিধায় এর থেকে দূরে থাকা আবশ্যক।