সাত মাস পর ফের সক্রিয় দুর্নীতি দমন কমিশনের ফাঁদ অভিযান

প্রকাশিত: ৯:৩১ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬

দীর্ঘ প্রায় সাত মাস কমিশনবিহীন থাকার পর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মধ্যেই আবারও সক্রিয় হয়েছে সংস্থাটির আলোচিত ফাঁদ অভিযান। সরকারি দপ্তরে ঘুষ লেনদেন রোধে ঘুষখোরদের হাতেনাতে ধরতে নতুন করে জোর তৎপরতা শুরু করেছে দুদক।

সর্বশেষ গত মঙ্গলবার চট্টগ্রামের পাহাড়তলী সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে দুই লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের সময় সাব-রেজিস্ট্রার আবদুস সোবহান, হেড ক্লার্ক ফারুক ইসলাম ও উমেদার রূপন দাশকে হাতেনাতে আটক করে দুদকের একটি দল। এক আইনজীবী তার মক্কেলের দুটি অংশীদারি চুক্তিপত্র নিবন্ধনের জন্য কার্যালয়ে গেলে কোনো ত্রুটি ছাড়াই দলিল নিবন্ধন আটকে দেওয়া হয়। পরে নিবন্ধনের বিনিময়ে দুই লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হলে আইনজীবী প্রথমে দুদকের হটলাইন ১০৬-এ এবং পরে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ের পর কমিশনের অনুমোদনে এই ফাঁদ অভিযান চালানো হয়।

এর আগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি দুদকের নোয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের একটি দল ফেনীর সোনাগাজী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আল-সাঈদ ও কার্যসহকারী আবু নাছেরকে এক লাখ টাকা ঘুষসহ হাতেনাতে আটক করেছিল। পাঁচটি প্রকল্পের বিল পরিশোধের বিনিময়ে তাদের বিরুদ্ধে ১২ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ ছিল।

দুদক সচিব মো. সাইদুর রহমান খান জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তসাপেক্ষে সত্যতা যাচাই করে কমিশন ফাঁদ অভিযান পরিচালনা করছে। পরের বছর ২০১৮ সালে ১৫টি এবং ২০১৯ সালে ১৬টি ফাঁদ মামলা পরিচালিত হয়। তিনি বলেন, সরকারি অফিসগুলোতে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু হয়েছে এবং এর সুফল পাওয়া যাচ্ছে। সাধারণ মানুষকে হটলাইন ১০৬-এ অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

দুদকের এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের তথ্যমতে, নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজউক, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ, ঢাকা দক্ষিণ ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন দপ্তরে অন্তত ৩০টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মশক নিধন কর্মসূচিতে অনিয়মের অভিযোগে একটি এনফোর্সমেন্ট টিম অভিযান চালায়, যার প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত দুদক মোট ৭৯টি ফাঁদ মামলা পরিচালনা করেছিল, যার মধ্যে ২০১৭ সালে সর্বোচ্চ ২৪টি মামলা হয়। পরবর্তী সময় এ ধরনের অভিযান ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে। ২০১৮ সালের দুদকের বার্ষিক প্রতিবেদনেও দেখা যায়, ওই বছর ১৫টি ফাঁদ অভিযান পরিচালিত হয়েছিল। গত ৩ মার্চ তৎকালীন চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনারের পদত্যাগের পর প্রায় ছয় মাস কমিশনবিহীন ছিল সংস্থাটি। এরপর ১৭ আগস্ট বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামানকে চেয়ারম্যান এবং ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়াকে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়, যারা ১৯ আগস্ট দায়িত্ব গ্রহণ করেন। নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ফাঁদ অভিযান ও এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম জোরদারের বার্তা দেওয়া হয়েছিল।