নিউইয়র্কে ১১ দেশের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, ৩০ কর্মসূচি প্রকাশিত: ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ নিউইয়র্ক সফর শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানিয়েছেন, সফরকালে প্রধানমন্ত্রী ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন এবং মোট ৩০টি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক শান্তিসহ নানাবিধ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। মাহদী আমিন আরও বলেন, প্রতিটি দেশই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে গ্রহণ করেছে। সফরের এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে জেপি মর্গান চেজ আয়োজিত প্রাতরাশ বৈঠকে অংশ নেন, যেখানে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ ও পথ নিয়ে আলোচনা হয়। ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে আসাকে স্বাগত জানানো হয় এবং বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করা হয়। এছাড়া জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে মানবাধিকার, আইনের শাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার মধ্যপ্রাচ্যের তিন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তিনি কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। তিন দেশই প্রধানমন্ত্রীকে নিজ নিজ দেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এই বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশি কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা, জনশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধি, জ্বালানি নিরাপত্তা, খনিজ খাতে সহযোগিতা এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সরকার মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিতে চায় বলে মাহদী আমিন উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ-সংশ্লিষ্ট আটটি কর্মসূচির মধ্যে পাঁচটিতে বক্তব্য দিয়েছেন। এছাড়া বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিব, মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত, ইউএনএইচসিআরের হাইকমিশনার এবং মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তিনি গেটস ফাউন্ডেশন ও ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। বাংলাদেশের উদ্যোগে রোহিঙ্গা সংকট এবং মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য ও মিডওয়াইফারি বিষয়ক দুটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন, জাস্ট ট্রানজিশন এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি নিয়েও প্রধানমন্ত্রী উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রেখেছেন। প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানও সফরে আটটি উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন এবং এর চারটিতে বক্তব্য দিয়েছেন। প্ল্যাটফর্ম অব উইমেন লিডার্স, ফার্স্ট স্পাউসেস ডায়ালগ এবং মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যবিষয়ক অনুষ্ঠানে তার বক্তব্য বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। চার দিনে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা প্রায় ৮০টি কর্মসূচিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ছোট একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হয়েছে এবং প্রতিটি কর্মসূচিতেই বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মর্তুজা, জাতিসংঘে বাংলাদেশের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। SHARES জাতীয় বিষয়: জাতিসংঘদ্বিপক্ষীয় বৈঠকনিউইয়র্কপ্রধানমন্ত্রীমাহদী আমিন