সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ২৪ ঘণ্টা অবরুদ্ধ অধ্যক্ষ ও শিক্ষকরা প্রকাশিত: ২:০৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে মুক্তি এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পুরোপুরি একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার দাবিতে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা টানা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। আন্দোলনের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা গতকাল রোববার বেলা ১১টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। এরপর থেকে আজ সোমবার পর্যন্ত টানা ২৪ ঘণ্টা ধরে ভবনের ভেতরে অধ্যক্ষসহ ১৪ জন শিক্ষক এবং ৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে থাকার কারণে তাদের বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির স্বকীয়তা ও পেশাগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা বারবার দাবি জানালেও কর্তৃপক্ষ কলেজটিকে অধিদপ্তর থেকে মুক্ত করার বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। শিক্ষার্থীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবনের তালা খোলা হবে না। কলেজের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আসাদুজ্জামান আজ বেলা ১১টার দিকে জানান, মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং তারা বিষয়টির সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকা শিক্ষক ও কর্মকর্তারা বাইরে থেকে খাবার আনিয়ে জানালার ফাঁক দিয়ে ভেতরে নিয়ে খাচ্ছেন। এদিকে, আন্দোলন চলাকালেই গতকাল বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের উপসচিব সাজ্জাদ হোসেন স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপনে রদবদলের নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে বর্তমানে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সহযোগী অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামানকে ফরিদপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে বদলি এবং ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মো. সাহিদ ইকবালকে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষ পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। আজকের মধ্যেই তাঁদের বর্তমান কর্মস্থল থেকে বদলি কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বদানকারী চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, তাদের আন্দোলন কোনো রদবদল বা অধিদপ্তরের নির্দেশের জন্য নয়, বরং কারিগরি অধিদপ্তর থেকে মুক্তিই তাদের একমাত্র লক্ষ্য। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষকদের অবরুদ্ধ রাখা হবে বলে তারা জানিয়েছেন। ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল, পুরকৌশল এবং কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের পাঁচটি ব্যাচে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী রয়েছেন, যাদের বেশির ভাগই এই আন্দোলনে যুক্ত হয়েছেন। SHARES জাতীয় বিষয়: অবরুদ্ধআন্দোলনইঞ্জিনিয়ারিং কলেজশিক্ষাসিলেট