শি জিনপিংকে মার্কিন অস্ত্র কেনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ট্রাম্প

প্রকাশিত: ১১:০২ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র কেনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। চীনের কাছে দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানিতে বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্প তাকে সরাসরি এ প্রস্তাব দিয়েছিলেন। চীনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড পারডিউ ফক্স নিউজ সানডে’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পারডিউ চীন বিষয়ে ট্রাম্পের নীতি এবং তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রি নিয়ে আলোচনার সময় এ বিষয়টি সামনে আনেন।

রাষ্ট্রদূত জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রায়ই বলে থাকেন যে যুক্তরাষ্ট্র সারা বিশ্বের অন্যান্য দেশের কাছে অস্ত্র বিক্রি করে। এরই অংশ হিসেবে তিনি প্রেসিডেন্ট শি’কে সরাসরি জিজ্ঞেস করেছিলেন, তিনি কিছু অস্ত্র কিনতে আগ্রহী কি না। তবে ট্রাম্প কখন এই প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কী ধরনের অস্ত্র নিয়ে আলোচনা হয়েছিল কিংবা শি’র তরফ থেকে কী জবাব এসেছিল—সেসব বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি রাষ্ট্রদূত। পারডিউ শি’কে ট্রাম্পের করা এই প্রশ্নটিকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবের পরিবর্তে প্রেসিডেন্টের চুক্তি ও দর-কষাকষিনির্ভর রাজনৈতিক পদ্ধতির একটি উদাহরণ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।

বাস্তবক্ষেত্রে চীনের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির পথে রয়েছে বড় ধরনের আইনি বাধা। ১৯৯০ সালের মার্কিন কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইউএস মিউনিশনস লিস্টে থাকা প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম চীনের মূল ভূখণ্ডে রপ্তানিতে বিধিনিষেধ রয়েছে। যদিও প্রেসিডেন্টের জাতীয় স্বার্থসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের সুযোগ রয়েছে, তবুও কয়েক দশক ধরে এই নিষেধাজ্ঞা বহাল আছে। এ ছাড়া ওয়াশিংটন বেইজিংকে এমন কী অস্ত্র সরবরাহ করতে পারে যা চীন নিজেই তৈরি করে না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। চীন বর্তমানে প্রচলিত অস্ত্রের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেই নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতায় স্বয়ংসম্পূর্ণ। বিভিন্ন তালিকায় চীনের অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা ডলারের হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের পেছনে থাকলেও, জাহাজ নির্মাণের ক্ষেত্রে চীনের শিল্প উৎপাদন সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় প্রায় ২৩০ গুণ বেশি। এছাড়া ছোট আকারের ড্রোন উৎপাদনেও চীন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ১০০ গুণেরও বেশি সক্ষম।

এদিকে এক চীন নীতি মানলেও তাইওয়ানের প্রধান বিদেশি অস্ত্র সরবরাহকারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা অব্যাহত রয়েছে। ১৯৭৯ সালের তাইওয়ান রিলেশনস অ্যাক্ট অনুযায়ী, তাইওয়ানকে আত্মরক্ষার সক্ষমতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ করে ওয়াশিংটন। বেইজিং এই সহায়তাকে তাদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন এবং অস্থিতিশীলতার কারণ হিসেবে দাবি করে আসছে। গত ডিসেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন তাইওয়ানের জন্য ১১ বিলিয়ন ডলারের একটি অস্ত্র প্যাকেজ অনুমোদন করে, যা এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড়। এ ছাড়া প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের আরেকটি প্যাকেজ কয়েক মাস ধরে আটকে রয়েছে। ট্রাম্প এটিকে ভালো দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে দুই নেতার বৈঠকের পর হোয়াইট হাউসের নথিতে আটকে থাকা ওই প্যাকেজ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি। পারডিউ দাবি করেন, পূর্ববর্তী প্রেসিডেন্টদের তুলনায় ট্রাম্প ইতিমধ্যে তাইওয়ানের জন্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি অস্ত্র অনুমোদন করেছেন।