রাজনীতির ভাষণে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে, বাড়ছে বিতর্ক

প্রকাশিত: ৭:৪৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩, ২০২৬

বিশ্বজুড়ে আইনসভার কার্যবিবরণী ও রাজনৈতিক ভাষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্য ইকোনমিস্টের সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সংসদ সদস্যদের বক্তব্যে এআই দ্বারা তৈরি বিষয়বস্তু এখন নিয়মিত স্থান করে নিচ্ছে। বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রযুক্তির এই অনুপ্রবেশ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

প্যাংগ্রাম নামক একটি আধুনিক এআই ডিটেকশন টুলের সহায়তায় করা এই বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ব্রিটিশ পার্লামেন্টে উচ্চারিত প্রতি ১০টি শব্দের মধ্যে একটির পেছনে রয়েছে এআইয়ের কারসাজি। অথচ ২০২৪ সালের দিকে এই হার প্রায় শূন্যের কোঠায় ছিল। বিষয়টি বেশ কৌতূহলোদ্দীপক যে, অনেক সংসদ সদস্য নিজের বক্তব্যে এআই ব্যবহারের কথা স্বীকার করলেও, এআইয়ের সবচেয়ে বেশি ব্যবহারকারী আইনপ্রণেতাদের অনেকেই বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অথবা সরাসরি অস্বীকার করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, কনজারভেটিভ পার্টির সংসদ সদস্য নিল শাস্ত্রী–হর্টসের গত এক বছরের সংসদীয় বক্তব্যের প্রায় তিন–চতুর্থাংশই এআই দিয়ে লেখা বলে শনাক্ত হয়েছে। তবে এআই ব্যবহারে ব্রিটিশ আইনপ্রণেতাদের চেয়েও এগিয়ে রয়েছেন অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার সংসদ সদস্যরা। যুক্তরাষ্ট্রের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের সদস্যরাও এই দৌড়ে পিছিয়ে নেই।

এই প্রবণতা নিয়ে সমালোচকদের ভাষ্য, চ্যাটবট বা এআই টুলগুলো প্রায়ই একই ধাঁচের গতানুগতিক শব্দ বা স্লোগান তৈরি করে, যা রাজনৈতিক বক্তব্যের মৌলিকতাকে ক্ষুণ্ণ করছে। পাবলিক ফার্স্ট নামক কনসালটেন্সির এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, রাজনীতিবিদদের এআই দিয়ে বক্তৃতা বা নীতিপত্র লেখানোর বিষয়টি সাধারণ ভোটাররা তীব্রভাবে অপছন্দ করেন। ভোটারদের মতে, জনপ্রতিনিধিরা যখন নিজেরা চিন্তা না করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর পুরোপুরি নির্ভর করেন, তখন তা সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রাণবন্ত সংলাপ ও প্রতিনিধিত্বের মূল ধারণাকে দুর্বল করে ফেলে।

তবে এর বিপরীতে কিছু রাজনীতিবিদের যুক্তি হলো, এআই তাঁদের দ্রুত গবেষণা শেষ করতে এবং ভোটারদের সেবায় বাড়তি সময় ব্যয় করতে সাহায্য করে। তা সত্ত্বেও, রাজনৈতিক চিন্তার ক্ষেত্রে রোবোটিক বা এআইয়ের এই নির্ভরতা ভবিষ্যতে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে সমাজ ও রাজনীতি বিশ্লেষকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।