শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স, বিভিন্ন শহরে ব্যাপক অবরোধ

প্রকাশিত: ৮:৫৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৬, ২০২৬

গত দুই সপ্তাহ ধরে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সরকারের শিক্ষানীতি ও বাজেট ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) এই আন্দোলন নতুন মাত্রা পায়, যখন বিভিন্ন শহরের রাজপথে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষক এবং অভিভাবকরাও। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মার্সেই, নাঁতেস ও লিওঁ-র মতো বড় শহরগুলোতে সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। অনেকের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে রাজনীতিবিদদের নীরবতার সমালোচনা করে প্রশ্ন তোলা হয়, তারা কি সাধারণ শিক্ষার্থীদের অস্তিত্ব সম্পর্কে অবগত? তবে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ দেখা গেল মঙ্গলবার।

দেশজুড়ে হাইস্কুল স্টুডেন্টস ইউনিয়নের দেওয়া তথ্যমতে, মঙ্গলবার অন্তত ১৮০০টিরও বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অবরোধ করা হয়েছে। কিছু স্কুল পরিস্থিতি সামাল দিতে অনলাইনে পাঠদান চালু রাখার চেষ্টা করেছে। শিক্ষার্থীদের মূল দাবির তালিকায় রয়েছে—ক্লাসে অনুপস্থিত শিক্ষকদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া, সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দীর্ঘ স্কুল সময়ের পুনর্বিবেচনা এবং দুপুরের খাবারের বিরতি বাড়ানোর দাবি। যার কয়েকটিতে লেখা ছিল— আমাদের রাজনীতিবিদরা কোথায়।

আন্দোলন চলাকালে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আন্দোলনের শুরুতেই পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও গণগ্রেপ্তার শুরু করলে ক্ষোভ আরও দানা বাঁধে। সরকার পক্ষ দাবি করছে, শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলন এখন শহুরে সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে সোমবার (৫ অক্টোবর) উত্তর ফ্রান্সে এক শিক্ষার্থীর হাত বিস্ফোরিত হয়ে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, ২৫০ থেকে ৩০০ জন বিক্ষোভকারী পুলিশকে লক্ষ্য করে শক্ত বস্তু ছুড়ছিলেন। তবে আঞ্চলিক গণমাধ্যম ‘লা ভয়েক্স নর্ড’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৫ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থী পুলিশের ছোড়া একটি গ্রেনেড হাতে তুলে নিলে তা বিস্ফোরিত হয়, এতে তার হাত ও শরীরের নিচের অংশ গুরুতর জখম হয়। শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে এখন উত্তাল ফ্রান্স।