সাভারে ৩০ ঘণ্টায় চারজনের অস্বাভাবিক মৃত্যু, আটক ১

প্রকাশিত: ৮:০১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৮, ২০২৬

ঢাকার অদূরে সাভারে প্রায় ৩০ ঘণ্টার ব্যবধানে চারটি ভিন্ন স্থান থেকে তিন নারীসহ চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতদের মধ্যে দুজন পোশাক শ্রমিক ও একজন গৃহবধূ রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, এসব মৃত্যুর মধ্যে কিছু হত্যাকাণ্ডের শিকার, আবার কেউ ঋণগ্রস্ত হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। একটি ঘটনায় একজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

আশুলিয়া থানা-পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে আশুলিয়ার পল্লিবিদ্যুৎ এলাকায় হাজী খালেকের বাসা থেকে পোশাক শ্রমিক আঁখি আক্তারের (২৪) রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আঁখি শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার ঘাগড়া কবিরাজপাড়া গ্রামের আবেদ আলীর মেয়ে। পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী জাহিদ হাসান (২৭) তাকে ধারালো ছুরি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পরপরই জাহিদকে আটক করেছে পুলিশ। জাহিদ পাশের নালিতাবাড়ী উপজেলার সিটপাড়া গ্রামের তাইজুদ্দিনের ছেলে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এর আগে বুধবার দিবাগত রাতে আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের একটি পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে ৪০ বছর বয়সী এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের ভাষ্যমতে, রাত সাড়ে আটটার দিকে পানির ট্যাংক দেখতে ছাদে গিয়ে আর ফিরে আসেননি তিনি। রাত ১১টার দিকে ছাদে তার নিথর দেহ পাওয়া যায়। সুরতহালে তার মাথার বাঁ পাশে কানের নিচে ও পিঠে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং মৃত্যুর কারণ হিসেবে ধর্ষণচেষ্টা বা অন্য কোনো বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

বুধবার দুপুরে আশুলিয়ার জামগড়া ইস্টার্ন হাউজিং এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তরিকুল ইসলাম (৩৮) নামের এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বাসিন্দা তরিকুল জুয়ায় আসক্ত ছিলেন এবং প্রায় দুই লাখ টাকা ঋণী ছিলেন বলে জানিয়েছে পরিবার। স্ত্রী কর্মস্থলে যাওয়ার পর তিনি ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেছেন বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা।

মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে কর্মস্থল থেকে ফেরার পর তানিয়া খাতুন (২৫) নামের আরেক পোশাক শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আশুলিয়ার কবিরপুরের বাইদগাঁও বলারটেকের ভাড়া বাসা থেকে রাত দুইটার দিকে সহকর্মীরা তার নিথর দেহ খাটের ওপর দেখতে পান। তানিয়া সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাগডাঙ্গা এলাকার মিজানুর রহমানের মেয়ে। নিহতের গলায় কালচে ও লালচে দাগ থাকায় এটি শ্বাসরোধে হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে পুলিশ। স্বজনরা সাতক্ষীরা থেকে রওনা দিয়েছেন, তারা পৌঁছালে মামলা দায়ের করা হবে।