৪০ টাকার মাছ থেকে ৩০ লাখের হ্যাচারি মালিক আবদুল্লাহ

প্রকাশিত: ৯:০০ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৯, ২০২৬

যশোরের কেশবপুর উপজেলার মাগুরখালী গ্রামের বাসিন্দা আবদুল্লাহ মাত্র ৪০ টাকা দিয়ে শুরু করা শখের মাছ চাষ থেকে আজ সফল উদ্যোক্তা হয়ে উঠেছেন। কেশবপুর বাহারুল উলুম কামিল মাদ্রাসার ফাজিল প্রথম বর্ষের এই ছাত্র গত আট বছরে পরিশ্রম ও ধৈর্যের মাধ্যমে নিজের পুঁজি ৩০ লাখ টাকায় উন্নীত করেছেন। বর্তমানে তিনি একটি বড় হ্যাচারির মালিক, যেখানে বাণিজ্যিকভাবে ৩০ ধরনের শৌখিন মাছ চাষ করা হচ্ছে।

আবদুল্লাহর এই যাত্রার শুরু আট বছর আগে, যখন তিনি এক বন্ধুর বাড়িতে রঙিন মাছ দেখে মুগ্ধ হয়ে ৪০ টাকায় দুটি মাছ কিনে নিয়ে আসেন। সেই মাছগুলো বাড়িতে কৌটায় রেখে পরিচর্যা শুরু করেন তিনি। সেখান থেকে মাছের বংশবিস্তার শুরু হলে তিনি উৎসাহিত হন এবং গত চার বছর ধরে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ করছেন। বাড়ির উঠানের পাশে ৬০টি চৌবাচ্চা ও একটি পুকুর ঘিরে গড়ে তোলা এই হ্যাচারিতে এখন ফাইটার ফিশ, গোল্ডফিশ, কমেট, কই কাপ, গাপ্পি, মলি শর্ট টেল, এঞ্জেল ফিশ, অরেঞ্জ মলি, ব্ল্যাক মলি ও হোয়াইট মলিসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ রয়েছে।

মাছ চাষের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে আবদুল্লাহ জানান, চৌবাচ্চাগুলোতে মাছের উপযোগী শেওলা ও সার্বক্ষণিক অক্সিজেনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মাছের খাদ্য হিসেবে বাজারের খাবারের পাশাপাশি জীবন্ত টিউবিফেক্স পোকা চাষ করে তা ব্যবহার করা হয়। গত সোমবার তাঁর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, উঠানের পাশে ছোট ছোট চৌবাচ্চায় রঙিন মাছের সমাহার। খাবার দিলেই মাছগুলো এক জায়গায় ছুটে আসে।

তাঁর উৎপাদিত মাছ যশোর, সাতক্ষীরা, ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রামে পাইকারি ও খুচরা বিক্রির জন্য পাঠানো হয়। ব্যবসায়ীরা মুঠোফোনে চাহিদা জানালে তিনি দূরপাল্লার বাসে করে মাছ পাঠিয়ে দেন এবং বিকাশের মাধ্যমে মূল্য গ্রহণ করেন।

শুরুতে পরিবারের আপত্তি ও প্রতিবেশীদের সমালোচনা থাকলেও আবদুল্লাহ দমে যাননি। তাঁর দাদার ভাষায়, যে মাছ খাওয়া যায় না তা চাষ করে কী লাভ হবে—এমন সংশয় থাকলেও আজ পরিবারের সবাই তাঁর ব্যবসায় সহায়তা করছেন। আবদুল্লাহর এই ব্যবসায়িক সাফল্যে তাঁর বাবা হাবিবুর রহমানও বিনিয়োগ করেছেন।

আবদুল্লাহর হ্যাচারির মাছের গুণগত মান নিয়ে প্রশংসা করেছেন ঢাকার কাঁটাবনের ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান ও খুলনার ফরাজীপাড়ার ফুল মার্কেটের মৎস্য ব্যবসায়ী আশীষ সরকার। কেশবপুর উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাস জানান, মৎস্য বিভাগ শুরু থেকেই আবদুল্লাহর হ্যাচারি তত্ত্বাবধান করছে এবং নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছে। তাঁর এই সাফল্যকে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করে অন্যদেরও মাছ চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে।