সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু নয়, সবার বড় পরিচয় বাংলাদেশি বললেন মাহদী আমিন

প্রকাশিত: ১১:৩৬ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১০, ২০২৬

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরুর কোনো বিভাজন থাকবে না, বরং প্রতিটি নাগরিকের মূল পরিচয় হবে 'বাংলাদেশি'—এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, রাষ্ট্রের কাছ থেকে, সমাজের কাছ থেকে এবং সরকারের কাছ থেকে প্রতিটি নাগরিক যাতে সমান অধিকার, নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও সম্মান পায়, তা নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর বনানী মাঠে গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশন আয়োজিত 'মহালয়া ১৪৩৩'-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

শুভ মহালয়া উদযাপনের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজার ক্ষণগণনা ও আনুষ্ঠানিক সূচনা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান মাহদী আমিন। তিনি বলেন, মহালয়া মানেই নতুন আশার আলো এবং অশুভের বিরুদ্ধে শুভ শক্তির বিজয়ের বার্তা। সব ধরনের অন্ধকার ও প্রতিকূলতা পেছনে ফেলে সত্য, ন্যায় ও সম্প্রীতির ওপর ভিত্তি করে একটি আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান তিনি। সুন্দর ও শৃঙ্খলাবদ্ধ আয়োজনের জন্য তিনি গুলশান-বনানী সর্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনকে বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

আজকের সমাবেশস্থলটি প্রধানমন্ত্রীর সংসদীয় এলাকাভুক্ত বলে উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, ধর্ম, বর্ণ, বিশ্বাস বা মূল্যবোধের ভিন্নতা যাই থাকুক না কেন, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি উদার ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, এমন এক বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা সরকারের লক্ষ্য, যেখানে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে বৈষম্য বা বিভেদের শিকার হতে হবে না। প্রতিটি মানুষ স্বাধীনভাবে মাথা উঁচু করে বাঁচবেন এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় সমান মর্যাদায় অংশ নেবেন।

সনাতনী সম্প্রদায়ের উৎসব আনন্দ যেন প্রতিটি মানুষের অন্তরে ছড়িয়ে পড়ে, সে লক্ষ্যে সরকারের নেওয়া বেশ কিছু পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন মাহদী আমিন। তিনি জানান, দীর্ঘ সময় পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় এবার প্রতিটি পূজামণ্ডপে সরকারি আর্থিক বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা বিবেচনা করে শারদীয় দুর্গোৎসবের সরকারি ছুটিও বাড়ানো হয়েছে। ধর্মীয় ভিন্নতা ও বৈচিত্র্যকে দেশের শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বিদ্বেষের জায়গায় ভালোবাসা, বৈষম্যের জায়গায় ন্যায়বিচার এবং বিভাজনের জায়গায় ঐক্য প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশের মূল শক্তি এ দেশের জনগণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, জনগণের অন্তরের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা, প্রত্যাশা এবং একতাবদ্ধ থাকার দৃঢ় প্রত্যয়ই রাষ্ট্র পরিচালনার মূল চালিকাশক্তি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচিত সরকার বিশ্বাস করে, দেশের মানুষের স্বার্থ, জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং সার্বিক জনকল্যাণই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। আর সে কারণেই 'সবার আগে বাংলাদেশ' নীতি মেনে দেশকে অগ্রাধিকার দিয়ে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে কাজ করতে হবে। পরিশেষে তিনি মহালয়ার বার্তা ধারণ করে দুর্গোৎসবের সার্বিক সাফল্য এবং সনাতনী সমাজের সর্বাঙ্গীন কল্যাণ কামনা করেন।

বনানী মাঠের এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শ্রী বিজন কান্তি সরকার, ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার পবন কুমার বাধে, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান শ্রী তপন কান্তি মজুমদার, গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি শ্রী অলোক সাহা এবং সাধারণ সম্পাদক শ্রী বিনয় গোপাল রায়সহ সনাতন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা।