দিল্লিতে ধর্নায় বসার পর সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আটক প্রকাশিত: ৪:০২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১০, ২০২৬ ভারতের রাজধানী দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগের দাবিতে ডাকা বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লিতে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটক করেছে পুলিশ। ভোট চুরির অভিযোগ তুলে সাউথ অ্যাভিনিউয়ে ধর্নায় বসার পর তাকে বেআইনিভাবে জমায়েতের অভিযোগে আটক করা হয়। জানা গেছে, সাউথ অ্যাভিনিউয়ের ১৮৩ নম্বর ভবনে সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে অবস্থান করছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকে বের হয়ে বিক্ষোভে যোগ দিতে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাকে বাধা দেয়। এর ফলে তিনি সাউথ অ্যাভিনিউয়ের বাসস্ট্যান্ডে বসে পড়েন। তার সঙ্গে এই ধর্নায় ডেরেক ওব্রায়েন, সাকেত গোখলে, প্রতিমা মণ্ডল ও সামিরুল ইসলামসহ দলের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। ঘটনার পর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "আমরা বেরিয়েছিলাম, আমাদের জেনজি আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। সিজেপি বয়েজদেরও আটক করা হয়েছে। অনেক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কাউকে যন্তর মন্তরের ভেতরে যেতে দেওয়া হয়নি। আমরা ছাত্র সমাজ, যুব সমাজের পাশে আছি।" সিজেপির এই কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথে বেশ কয়েকজন আইনজীবীও আটক হয়েছেন। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশন শীর্ষ আদালতের সরাসরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছে। এর আগে শনিবার সকালে মুম্বাই থেকে সকাল ১০টা ১৯ মিনিটে একটি বিমানে দিল্লিতে নামেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে। তার সঙ্গে ছিলেন সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কারা। বিমানটি দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণ করার পর পুলিশ ভেতরে উঠে তাদের আটক করে। এ সময় বিমানের অন্য যাত্রীদের দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। অন্যদিকে, কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগেই সকালে গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬-র কেন্দ্রীয় বিহার সোসাইটির বাড়ি থেকে আটক করা হয় ধ্রুবকে। গুরুগ্রাম পুলিশ হিন্দুস্তান টাইমসকে জানিয়েছে, পুলিশের দেওয়া নির্দেশনা অমান্য করার অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে। যন্তর মন্তরে না যাওয়ার জন্য পুলিশ তাকে অনুরোধ জানালেও তিনি তা মানেননি। ভারতের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপির ডাক দেওয়া এই বিক্ষোভ কর্মসূচির কারণে দিল্লিকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে। শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৪০ হাজারের বেশি নিরাপত্তারক্ষী ও কেন্দ্রীয় আধাসেনা মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে যন্তর মন্তর সংলগ্ন এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। শুক্রবার রাত থেকে রাজধানীর ৪৫টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে এবং ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত দিল্লিগামী সমস্ত মেইল ও এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল বাতিল করা হয়। যানবাহন ও চলাচলে কড়াকড়ির পাশাপাশি রাজধানীর রাস্তায় সকাল থেকেই বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় অনবরত মাইকিং করে জানানো হচ্ছে যে, সিজেপির এই কর্মসূচির কোনো প্রশাসনিক অনুমতি নেই। জমায়েত না করা এবং স্লোগান না দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় কমিউনিটি সেন্টার, মসজিদ ও বাসিন্দাদের সংগঠনগুলোকেও বিষয়টি জানানোর অনুরোধ করেছে পুলিশ। SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: আটকককরোচ জনতা পার্টিজ্ঞানেশ কুমারদিল্লিভারতমমতা বন্দ্যোপাধ্যায়