দেশজুড়ে চাঁদাবাজির দৌরাত্ম্য: জিম্মি সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা প্রকাশিত: ১২:০২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১১, ২০২৬ দেশের অলিগলিতে এখন এক নতুন আতঙ্কের নাম ‘ভাই’। পেশা কী জানতে চাইলে অনেকে নির্দ্বিধায় বলছেন, ‘অমুক ভাইয়ের সঙ্গে আছি’। এই ‘ভাই’রা মূলত এলাকার মাস্তান বা নেতা হিসেবে পরিচিত, যারা ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করেন। চাঁদাবাজির এই নেটওয়ার্ক শহর-বন্দর থেকে শুরু করে গ্রাম-গঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত। অনেক ব্যবসায়ী চাঁদাবাজের ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন, নতুন শিল্পকারখানা গড়ার সাহস পাচ্ছেন না। এমনকি ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়ার প্রক্রিয়াও এখন এই চাঁদাবাজ চক্রের নিয়ন্ত্রণে। তারা ব্যাংক ম্যানেজারদের পর্যন্ত শাসিয়ে রাখে যাতে লোন হওয়ার খবর তাদের কাছে আগে পৌঁছায়। চাঁদাবাজি বর্তমানে এক ধরনের মহামারিতে রূপ নিয়েছে। ফুটপাতের ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে শিল্পাঞ্চলের বিনিয়োগকারীরা—কেউই এই চক্রের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। দিনের মধ্যে অন্তত তিনটি গ্রুপকে চাঁদা দিতে হয় ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের। শিল্পাঞ্চলের বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও এই পরিস্থিতির শিকার; তাদের বাধ্য করা হচ্ছে মাসোহারা দিতে অথবা নিম্নমানের মালামাল কিনতে। ব্যতিক্রম হলেই নেমে আসে হামলা ও নির্যাতন। রাজনৈতিক মদত ছাড়া এই চাঁদাবাজি যে সম্ভব নয়, তা এখন প্রতিষ্ঠিত সত্য। এছাড়া কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারিদের ব্যবহার করেও এই ‘ভাই’রা তাদের আধিপত্য বজায় রাখছে। রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গা থেকে শুরু করে টেন্ডার বাণিজ্য, সবখানেই এই চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য। আইনপ্রণেতাদের বিরুদ্ধেও দখলবাজির অভিযোগ উঠছে, যার ফলে ঢাকায় একজনকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রশাসনিক দুর্বলতাই এই পরিস্থিতির মূল কারণ। অনেক সময় পুলিশ কর্মকর্তারাও অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, প্রমোশন ও পোস্টিং কেনাবেচার মাধ্যমে দায়িত্ব পাওয়ায় তাদের প্রথম কাজ হয়ে দাঁড়ায় বিনিয়োগ করা পুঁজি উঠানো, যার ফলে তারা অনেক সময় চাঁদাবাজদের সঙ্গে হাত মেলাতে বাধ্য হন। বর্তমানে চাঁদাবাজির ধরনও বদলেছে। আগে টাকা জমা হতো বিদেশি ব্যাংকে, এখন ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে লেনদেন হচ্ছে। বিদেশগামী বাংলাদেশিদের ছাড়পত্র পেতেও মোটা অংকের টাকা দিয়ে ‘ভাই’দের নেটওয়ার্কের দ্বারস্থ হতে হয়। এমনকি কবরের মাটি পেতেও এই চক্রের অনুমতি প্রয়োজন হয়। সরকার বদলালেও চাঁদাবাজির ফরম্যাট নতুন রূপ নেয়, কিন্তু সাধারণ মানুষ সবসময়ই জিম্মি থেকে যায়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর মানুষের আস্থা দিন দিন কমছে। সরকার বদলায় চাঁদাবাজের ফরম্যাটেও নতুন রূপ পায়। সাধারণ মানুষ এখানে জিম্মিই থেকে যায়। আরও পড়ুন: ঢাকা থেকে ৫ ফ্লাইট বাতিল SHARES অন্যান্য বিষয়: অপরাধচাঁদাবাজিনিরাপত্তাপ্রশাসনব্যবসায়ী