পেশোয়ারে স্কুলের ছাদ ধসে ২৮ জনের মৃত্যু

প্রকাশিত: ৩:৩৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৫, ২০২৬

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের রাজধানী পেশোয়ারে একটি বেসরকারি স্কুলের ছাদ ধসে পড়ার ঘটনায় অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার পেশোয়ারের আফ্রিদি আবাদ এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহতদের মধ্যে ২৭ জন শিক্ষার্থী এবং একজন নারী শিক্ষক রয়েছেন। এছাড়া এই ঘটনায় আরও ১৯ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

জরুরি উদ্ধারকারী সংস্থা রেসকিউ ১১২২-এর মুখপাত্র বিলাল আহমেদ ফয়জি জানিয়েছেন, উদ্ধার অভিযান এখনো চলমান রয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কয়েকজন আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর আগে লেডি রিডিং হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আহতদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং হাসপাতালে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।

পেশোয়ারের ডেপুটি কমিশনার আফাক ওয়াজির জানান, আল খায়ের স্কুলের শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীরা থাকা অবস্থায় ছাদটি ধসে পড়ে। সামিউল্লাহ নামের এক অভিভাবক জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তিনি আট বছরের কম বয়সি তিনটি শিশুকে উদ্ধার করেন। তিনি আরও জানান, তার ছয় সন্তান এই স্কুলে পড়াশোনা করে, তবে তার ছেলে পানি খাওয়ার জন্য শ্রেণিকক্ষ থেকে বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে গেছে।

প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করেছেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতার জন্য প্রার্থনার পাশাপাশি তাদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।

পাকিস্তানে ভবন ও ছাদ ধসে পড়ার ঘটনা নতুন নয়। দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণে প্রায়শই এমন দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। চলতি বছরের জুলাই মাসে উমরকোটের কাছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দেয়াল ধসে তিন শিশু এবং লাহোরের বাগবানপুরা এলাকায় নির্মাণাধীন স্কুলের ছাদ ধসে এক শিশু নিহত হয়েছিল। এছাড়াও জুনে লাহোরের কাহনায় প্রাইভেট টিউশন সেন্টারের ছাদ ধসে ১৪ শিশু এবং ডেরা গাজি খানে চার শিশু প্রাণ হারানোর মতো মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।

সামিউল্লাহ বলেন, “সকাল ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে বাড়ি থেকে ফোন পাই। প্রায় ১০ মিনিট পর, সকাল ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। আমাদের ছয় সন্তান এই স্কুলে পড়ে।”

পাকিস্তানে ভবন ও ছাদ ধসে পড়ার ঘটনা বিরল নয়। প্রায়শই দুর্বল নিরাপত্তা মান এবং নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার মূলত এসব দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। জুলাই মাসে উমরকোটের কাছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাইরের দেয়ালের একাংশ ধসে পড়লে ৩ থেকে ১৩ বছর বয়সী তিন শিশু নিহত হয়। একই মাসে লাহোরের বাগবানপুরা এলাকায় নির্মাণাধীন একটি বেস