হরমুজ প্রণালিতে দুটি জাহাজ ডুবল, বেড়েছে হামলার তীব্রতা

প্রকাশিত: ৯:৩২ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৫, ২০২৬

হরমুজ প্রণালির কাছে গত ২৪ ঘণ্টায় ক্ষেপণাস্ত্র বা প্রক্ষেপণের আঘাতে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ ডুবে গেছে বলে জানিয়েছেন সামুদ্রিক নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। বুধবার প্রকাশিত এই তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ দিনে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলার তীব্রতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরান জানিয়েছে, তাদের বন্দরের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ এবং গত মাসে আরোপ করা কঠোর নিষেধাজ্ঞার প্রতিশোধ হিসেবেই এই হামলাগুলো চালানো হচ্ছে।

সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী 'জিএফএস প্রাইড' নামের একটি কনটেইনারবাহী জাহাজ মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় হামলার শিকার হয়। ২ হাজার ৮২৪ টিইইউ ধারণক্ষমতার এই জাহাজটিতে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে আগুন ধরে যায় এবং পরবর্তীতে এটি ডুবে যায়। সিঙ্গাপুরের সামুদ্রিক ও বন্দর কর্তৃপক্ষ (এমপিএ) জানিয়েছে, জাহাজের ২১ জন নাবিককেই নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে এবং এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এই জাহাজটির ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান হলো সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক জিএফএস শিপ ম্যানেজমেন্ট এফজেডই।

এর আগে ২৩ সেপ্টেম্বর 'কেপ দাও' নামের একটি শুকনো পণ্যবাহী জাহাজ প্রণালির কাছাকাছি হামলার শিকার হয়েছিল। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) তথ্যমতে, সেই প্রক্ষেপণের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর জাহাজটি ডুবে গেছে। এই হামলায় একজন নাবিক নিহত হন এবং বাকিদের দ্রুত সরিয়ে নেয়া হয়। জাহাজটির ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান হলো সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক পিওনিজ শিপম্যানেজমেন্ট এফজেডই।

আইএমওর তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে জিএফএস প্রাইড ও কেপ দাও হলো দ্বিতীয় ও তৃতীয় জাহাজ যেগুলো এই সংঘাতের জেরে ডুবে গেল। সিঙ্গাপুরের সামুদ্রিক ও বন্দর কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাগুলোকে বিনা উসকানিতে চালানো আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

সামুদ্রিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান মারিস্কস জানিয়েছে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর হুমকি অব্যাহত রয়েছে। এই ঝুঁকি কেবল তেলবাহী ট্যাংকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং কনটেইনার ও শুকনো পণ্যবাহী জাহাজও এখন লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে। উল্লেখ্য, যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো।