রুশ তেল স্থাপনায় হামলা, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ক্ষুব্ধ জেলেনস্কি

প্রকাশিত: ৭:২২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৫, ২০২৬

রাশিয়ার তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে ইউক্রেন বড় ধরনের হামলার চেষ্টা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে মস্কো। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, মস্কোর দক্ষিণে রিয়াজান অঞ্চলের একটি তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। রুশ কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, তারা চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ও কয়েক ডজন ড্রোন প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে, তবে সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ পড়ে শোধনাগারটিতে আগুন ধরে যায়।

এমন সময় এই সংঘাতের খবর এল, যখন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ঘোষণা দিয়েছেন যে, কিয়েভ রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা আবার শুরু করবে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে তিন দিনের জন্য এসব স্থাপনায় হামলা বন্ধ রেখেছিল ইউক্রেন। ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, এই তিন দিনেও রাশিয়া ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা অব্যাহত রেখেছিল, তাই এখন আর হামলা বন্ধ রাখার কোনো অবকাশ নেই। তিনি উল্লেখ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধের যে প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তা রাশিয়া কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উপেক্ষা করেছে, যার ফলে ইউক্রেনের কয়েক লাখ মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছিল।

জেলেনস্কি আরও অভিযোগ করেছেন যে, রাশিয়ার হামলা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ বন্ধের হুমকি দিয়ে ওয়াশিংটন ইউক্রেনকে পাল্টা হামলা বন্ধের জন্য চাপ দিচ্ছে। তার ভাষ্যমতে, মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলা বন্ধ না করলে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান আটকে দেওয়া হবে। যদিও ট্রাম্প গোয়েন্দা সহযোগিতা বন্ধ করার কথা অস্বীকার করেছেন। ইউক্রেনের সামরিক প্রতিরক্ষায় মার্কিন আগাম সতর্কবার্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, পাশাপাশি ড্রোন পরিচালনা ও আকাশসীমা সুরক্ষায় দেশটির সামরিক বাহিনী স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরশীল। সম্প্রতি স্টারলিংক সংযোগের গতিসীমা কমিয়ে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জেলেনস্কি। বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র বিবিসিকে জানায়, সামরিক কাজে ব্যবহৃত স্টারশিল্ডের চলন্ত অবস্থায় সংযোগ ব্যবহারের সুবিধা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে, তবে বিধিনিষেধ আরোপের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জেলেনস্কির অভিযোগ, রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ৩ লাখ টন ডিজেল সরবরাহের চুক্তি কার্যত মস্কোর যুদ্ধ প্রচেষ্টাকেই অর্থায়ন করবে। ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন দাম কমানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু তার মূল্য ইউক্রেনকে দিতে হচ্ছে বলে মনে করছেন তিনি। এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ইউক্রেনের বিভিন্ন শহর ও জনপদে রাশিয়ার ব্যাপক হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। জেলেনস্কির দাবি, এই সময়ে রাশিয়া ৮৫০টির বেশি ড্রোন ছুড়েছে। ইউক্রেনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার বিষয়টি ব্রাসেলসে ইউরোপীয় নেতাদের সম্মেলনেও গুরুত্ব পাচ্ছে। এরই মধ্যে যুক্তরাজ্য কিয়েভে হালকা বহুমুখী ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ ত্বরান্বিত করার ঘোষণা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা, রাশিয়ার অব্যাহত হামলা এবং জ্বালানি স্বার্থের টানাপোড়েনে ইউক্রেন যুদ্ধের কূটনৈতিক সমীকরণ আরও জটিল হয়ে উঠছে।