১০ লাখ টাকায় যুব উন্নয়নের প্রশ্ন ফাঁসের চুক্তি, গ্রেপ্তার ৭

প্রকাশিত: ৯:১০ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৮, ২০২৬

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ও উত্তর পাইয়ে দেওয়ার নামে চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে ১০ লাখ টাকার লিখিত চুক্তি করত একটি জালিয়াত চক্র। চুক্তির শর্ত হিসেবে প্রার্থীদের মূল শিক্ষাসনদ জমা রাখা হতো এবং পুরো টাকা পরিশোধের পরই তা ফেরত দেওয়া হতো। কোনো প্রার্থী আগাম টাকা দিতে না পারলে জমা দিতে হতো দুই থেকে তিন লাখ টাকার স্বাক্ষরিত ব্যাংক চেক। চক্রটির সন্ধান পেয়ে ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় গত বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অফিস সহায়ক নূর মোহাম্মদ (৩০), কম্পিউটার অপারেটর মো. জাহাঙ্গীর (৩৮), কম্পিউটার অপারেটর এস এম ইমদাদুল ইসলাম (৩৫), প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক আসাদুল ইসলাম (৩৩), পরিবেশ অধিদপ্তরের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. রুবেল ইসলাম (৩৩) এবং চক্রের অন্য দুই সদস্য মফিজুল ইসলাম (২৩) ও মো. হাসিনুর রহমান ওরফে সুজন। শনিবার আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় তাঁদের কাছ থেকে ১০০ টাকার ১১৬টি স্ট্যাম্প, চাকরিপ্রার্থীদের ১০টি মূল সনদ, ৪০ জন প্রার্থীর ব্যাংক চেকের পাতা ও ব্যাংক চেক বই জব্দ করা হয়।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ও এসআরবি ৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন জানান, প্রশ্ন ফাঁস চক্রের সদস্যরা প্রার্থীর কাছ থেকে ১০০ টাকার স্ট্যাম্পে ১০ লাখ টাকার লিখিত চুক্তি করাত। টাকা আদায়ের জামানত হিসেবে মূল সনদ এবং অন্তত ৪০ জন চাকরিপ্রার্থীর প্রত্যেকের কাছ থেকে দুই থেকে তিন লাখ টাকা লেখা স্বাক্ষরিত ব্যাংক চেক নেওয়া হতো। এনবিআরের কর্মচারীদের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র বাইরে আসে এবং তা চক্রের সদস্যদের কাছে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ফাঁস হওয়া প্রশ্নের উত্তর তৈরি করে গ্রাহক ও সম্ভাব্য পরীক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।

তদন্ত সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, গত ১০ অক্টোবর ভোর ৪টা ৪৩ মিনিটে এনবিআরের অফিস সহকারী নূর মোহাম্মদের মুঠোফোনে প্রশ্নপত্রের একটি অস্পষ্ট ছবি আসে। এরপর সকাল সোয়া ছয়টার দিকে একই প্রশ্নপত্রের আরও একটি পরিষ্কার ছবি পান ওই প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার অপারেটর জাহাঙ্গীর। পরে সেই প্রশ্নপত্রের উত্তর তৈরি করে চক্রের অন্য সদস্যদের কাছে পাঠানো হয় এবং তাঁদের হাত ধরে গ্রাহক পরীক্ষার্থীদের কাছে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। মূল প্রশ্নপত্রটি কোথা থেকে এবং কার মাধ্যমে চক্রের হাতে এসেছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার ২৪২টি শূন্য পদের বিপরীতে ৩ লাখ ১৮ হাজার ৯৭৬ জন পরীক্ষার্থী যোগ্য বিবেচিত হয়েছিলেন। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ১০ অক্টোবর বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঢাকা মহানগরের ১০টি কেন্দ্র এমসিকিউ পদ্ধতিতে পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সকাল ১০টা ৩ মিনিটে প্রশ্ন ফাঁসের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ায় কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা স্থগিত করে। পরদিন ১১ অক্টোবর মতিঝিল থানায় মামলা করেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন) মো. আতিকুর রহমান। এদিকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় অতিরিক্ত সচিবকে প্রধান করে গত শনিবার পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। পরবর্তীতে গত শুক্রবার নতুন করে এই নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে।

মতিঝিল থানায় দায়ের করা এই মামলার ছায়া তদন্ত করছিল এসআরবি। পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ জানান, মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মীর্জা মোহাম্মদ মুক্তা জানিয়েছেন, রোববারই মামলার সব নথি সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হবে।