প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত: ৯:০০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৭, ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সরকার তাদের ভাতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করবে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে আগামীতে এই ভাতা বাড়ানো হবে, যাতে তারা কিছুটা হলেও স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করতে পারেন।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের অধিকার, মর্যাদা ও প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো যথাযথভাবে দেখা সরকারের পাশাপাশি সমাজেরও দায়িত্ব। অতীতে যেসব ঘাটতি ছিল, তা পূরণে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তিনি সমাজকল্যাণমন্ত্রীকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান ও আদালতে সাংকেতিক ভাষা ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টির বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে এ ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হবে। এছাড়া হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে যোগাযোগের অসুবিধা দূর করতে সাংকেতিক ভাষা জানা কর্মী রাখার বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। প্রতিবন্ধী নারীদের আইনি সহায়তা নিশ্চিতের বিষয়েও সরকার উদ্যোগ নেবে বলে তিনি জানান।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রকৃত সংখ্যা নিরূপণে নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের জন্য বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে নির্দেশনা দেওয়া হবে। এছাড়া প্রতিবন্ধী কৃষকদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা প্রদান এবং সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে।

গণপরিবহনে যাতায়াতের সমস্যা সমাধানে প্রতিবন্ধীবান্ধব বাস চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন নারীদের জন্য পিংক বাসসেবা আরও উপযোগী করা হবে। নতুন ভবনের নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চলাচলের উপযোগী ব্যবস্থা নিশ্চিত না থাকলে নকশা অনুমোদন না দেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। জাতীয় সংসদে তাদের প্রতিনিধিত্বের প্রস্তাবটি সাংবিধানিক বিবেচনার বিষয় জানিয়ে তিনি দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দেন। এছাড়া আইনি সহায়তার লক্ষ্যে সমাজকল্যাণ, আইন এবং নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে তিনি জানান।

বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির (বিপিকেএস) প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আব্দুস সাত্তার দুলালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ৩০ জন প্রতিনিধি নিজেদের দাবি ও সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এ সময় মো. মহসিন নামের এক প্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদ প্রধানমন্ত্রীকে ক্যাপ উপহার দিলে তিনি মঞ্চ থেকে নেমে তা গ্রহণ করেন এবং ওই ক্রীড়াবিদকে বিদেশে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত প্রতিনিধিদের সঙ্গে গ্রুপ ছবিতে অংশ নেন।