আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ক্রিপ্টো ব্যবহারের পরিকল্পনা নেতানিয়াহুর

প্রকাশিত: ১২:০৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৪, ২০২৬

ইসরাইলের ওপর আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও ব্যাংকিং নিষেধাজ্ঞা আরও জোরদার হতে পারে সতর্ক করে দিয়ে দেশটির লেনদেন ব্যবস্থা সচল রাখতে এখন থেকেই আগাম প্রস্তুতির আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন বজায় রাখতে ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি। ইসরাইলি পার্লামেন্ট নেসেট নির্বাচনের মাত্র চার দিন আগে শুক্রবার চ্যানেল টেনের একটি অর্থনীতি বিষয়ক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব তথ্য প্রকাশ করেন, যা পরে অনলাইন টাইমস অব ইসরাইল গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করে।

সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু মন্তব্য করেন, ব্যাংকিং খাতে বিধিনিষেধ আসার আগেই তা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম একটি অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলার কাজ তিনি করছেন। সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে ক্রিপ্টোকারেন্সির প্রস্তাব দিলে নেতানিয়াহু তাতে সায় দেন। পাশাপাশি সরকারি নিয়ন্ত্রণমুক্ত বিকেন্দ্রীভূত ডিজিটাল ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি জানান, এটি একটি কার্যকর বিকল্প এবং এ প্রযুক্তিকে কীভাবে লেনদেনে কাজে লাগানো যায় সে বিষয়ে কৌশল নির্ধারণের জন্য তিনি ইতোমধ্যে উপদেষ্টাদের নির্দেশ দিয়েছেন। ক্রিপ্টোকারেন্সি বিকল্প পথ তৈরি করে আর্থিক নিষেধাজ্ঞার প্রভাব কিছুটা কমাতে পারলেও এটি পুরোপুরি ঝুঁকিহীন নয়, কারণ বিভিন্ন ব্লকচেইন নেটওয়ার্কের লেনদেনের গতিবিধি ট্র্যাক বা শনাক্ত করা সম্ভব। তবে চ্যানেল টুয়েলভ-কে দেওয়া বক্তব্যে ইসরাইলের এক জ্যেষ্ঠ অর্থনৈতিক কর্মকর্তা নেতানিয়াহুর এই প্রস্তাবকে তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ক্রিপ্টোকারেন্সি দিয়ে নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর পরিকল্পনা লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হতে বাধ্য এবং এ নিয়ে প্রকাশ্য আলোচনাও দেশের অর্থনীতির ক্ষতি করতে পারে।

আন্তর্জাতিক চাপের পটভূমিতে ইতিমধ্যে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা এবং নেতানিয়াহুর ডানপন্থি সরকারের অনুমোদিত বসতি সম্প্রসারণের প্রতিবাদে যুক্তরাজ্যসহ ১২টি পশ্চিমা দেশ বসতি উৎপাদিত পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। ব্রিটেনের নেতৃত্বে নেওয়া এসব পদক্ষেপ মূলত পশ্চিম তীরের বসতিগুলোকে লক্ষ্য করে করা হলেও দ্য টাইমস অব ইসরাইল-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অর্থনীতিবিদ ও শিল্প খাতের বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, এর বিরূপ প্রভাব ইসরাইলের মূল ভূখণ্ডের অর্থনীতিতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। নেতানিয়াহু এই পরিস্থিতিকে অবধারিত বাস্তবতা হিসেবে উপস্থাপন করলেও তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা অভিযোগ করছেন, সরকারের চরমপন্থি নীতির কারণেই ইসরাইল বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে নজিরবিহীন বিচ্ছিন্নতার সম্মুখীন হচ্ছে।

শুধু ব্যাংকিং বাবদ চিকিৎসাই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার প্রসঙ্গেও কঠোর বাস্তবতা মেনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী। ইসরাইলকে প্রতিরক্ষায় স্বনির্ভর হওয়ার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের শত শত কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা চিরকাল আসবে না। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে নেতানিয়াহু বলেন, আমেরিকার কাছে দুইবার বহু কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা সহায়তা নিশ্চিত করা সম্ভব হলেও ভবিষ্যতে এমনটা আর পাওয়ার আশা না করাই ভালো। যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইলের ওপর জনসমর্থন কমে যাওয়ার বিষয়ে তিনি মার্কিন অভ্যন্তরীণ কারণকে দায়ী করলেও তার বিরোধীরা মনে করেন, নেতানিয়াহুর নিজস্ব কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপই এই সমর্থন দ্রুত কমার জন্য দায়ী।

নির্বাচনের ঠিক আগে নেতানিয়াহুর এই খোলামেলা স্বীকারোক্তিকে কেন্দ্র করে তীব্র সরব হয়েছে ইসরাইলের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। বিরোধীদলীয় নেতা ও ‘বেয়াখাদ’ দলের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা ইয়াইর লাপিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেই স্বীকার করছেন যে তার সরকার পুনর্নির্বাচিত হলে মার্কিন নিরাপত্তা সহায়তা বন্ধ হবে এবং ইসরাইল এমন কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়বে যা অর্থনীতিকে ধ্বংস করবে, পণ্যের দাম আকাশচুম্বী করবে ও অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে আনবে। অপরদিকে ‘দ্য ডেমোক্রেটস’ দলের প্রধান ইয়াইর গোলান এক্সে নেতানিয়াহুর সমালোচনা করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী আবারও বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে উন্মত্ত আচরণ করছেন এবং তিনি নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছেন।