লন্ডনে সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ভাইয়ের ২৪৭ কোটির ফ্ল্যাটে আদালতের নিষেধাজ্ঞা প্রকাশিত: ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৪, ২০২৬ যুক্তরাজ্যের লন্ডনের রিজেন্টস পার্ক এলাকার প্রায় দেড় কোটি পাউন্ড মূল্যের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কেনাবেচা বা হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন দেশটির হাইকোর্ট। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই সম্পত্তির দাম প্রায় ২৪৭ কোটি টাকা। এই ফ্ল্যাটটির মালিকানা বাংলাদেশের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর ভাই আনিসুজ্জামান চৌধুরী রনির সঙ্গে সম্পৃক্ত। অর্থ পাচার ও দুর্নীতির সন্দেহে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির (এনসিএ) চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে আদালত এই নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তকারী সংস্থা এনসিএ আদালতে অভিযোগ করেছে যে, এই সম্পত্তির সঙ্গে অর্থ আত্মসাৎ, দুর্নীতি এবং প্রতারণার যোগসূত্র রয়েছে। সংস্থাটির দাবি, আনিসুজ্জামান চৌধুরীই এই ফ্ল্যাটের প্রকৃত মালিক এবং এটি ক্রয়ের অর্থের উৎস তিনি যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেননি। তদন্ত কর্মকর্তার লিখিত সাক্ষ্য অনুযায়ী, সম্পত্তির প্রকৃত মালিকানা গোপন করার লক্ষ্যেই অত্যন্ত জটিল ও কৌশলী মালিকানা কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল। ভূমি নিবন্ধন দপ্তরের তথ্য অনুসারে, আনিসুজ্জামান রনি ২০২৩ সালে ‘রনি ৪২ লিমিটেড’ নামের একটি কোম্পানির মাধ্যমে এই ফ্ল্যাটটি কেনেন। তখন এর দাম ছিল প্রায় ১ কোটি ২৪ লাখ পাউন্ড। পরবর্তী সময়ে কোম্পানিটির নাম বদলে পিএনএন ইউকে প্রপার্টিজ রাখা হয়। এনসিএ আরও জানিয়েছে, সিঙ্গাপুরের ডিবিএস ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণ পুনঃঅর্থায়নের চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি, যার ফলে ব্যাংকটি এখন ফ্ল্যাটটির দখল নিতে আইনি লড়াই চালাচ্ছে। বিচারপতি কারেন স্টেইন রায়ে উল্লেখ করেছেন, এই ফ্ল্যাটটি যে অপরাধলব্ধ অর্থ দিয়ে কেনা হয়েছে, তা বিশ্বাস করার মতো যথেষ্ট যুক্তিসংগত ভিত্তি বিদ্যমান। এ কারণেই তিনি সম্পত্তিটি হস্তান্তর বা বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। তবে আদালতের নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়েছে, বাড়িওয়ালা যদি ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে দখল পুনরুদ্ধার করতে চান, তবে তিনি পৃথক আইনি ব্যবস্থা নিতে পারবেন। এ কারণে সম্পত্তিটি বিক্রি বা অন্য কারও কাছে হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা দেন তিনি। আদালতের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আনিসুজ্জামান চৌধুরীর আইনজীবীরা কোনো আপত্তি তোলেননি। অন্যদিকে, আনিসুজ্জামান নিজেই সব ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, তিনি কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত নন এবং মালিকানা গোপনের বিষয়টিও সত্য নয়। এছাড়া ভবিষ্যতে কোনো দেওয়ানি মামলা করা হলে তিনি তা আইনিভাবে মোকাবিলা করবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, তাঁর পরিবারকে নিয়ে মানহানিকর বক্তব্য দেওয়া হলে তিনি আইনি ব্যবস্থা নেবেন। উল্লেখ্য যে, এই ঘটনাটি যুক্তরাজ্যে চলমান একটি বৃহত্তর তদন্তের অংশ। ওই তদন্তে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর আগে ২০২৫ সালের জুনে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ১৮ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড সমমূল্যের সম্পদ জব্দের আদেশ পেয়েছিল এনসিএ। তখন ওই সম্পদগুলোর উৎস ব্যাখ্যার জন্য সাবেক মন্ত্রী, তাঁর স্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকে আদালতের নির্দেশ মেনে চলতে হয়েছিল, যা দেশটিতে ‘আনএক্সপ্লেইনড ওয়েলথ অর্ডার’ বা ইউডব্লিউও নামে পরিচিত। আদালতে উপস্থাপিত নথিপত্র অনুযায়ী, ১৯৯২ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তাঁর পরিবার প্রায় ২৯ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের সম্পদের মালিক হয়েছেন। ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার বিদেশে পাচার করা সম্পদের সন্ধানে বিশেষ তৎপরতা শুরু করে। সরকারের অভিযোগ ছিল, সাবেক শাসনামলে বাংলাদেশ থেকে অর্থ সরিয়ে বিদেশে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার লন্ডনে আনিসুজ্জামান চৌধুরীর মালিকানাধীন ফ্ল্যাটটিতে আদালতের নজর পড়ল। SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: অর্থ পাচারআনিসুজ্জামান চৌধুরীদুর্নীতিযুক্তরাজ্যলন্ডনসাইফুজ্জামান চৌধুরী