বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের জোরপূর্বক রুশ বাহিনীতে নিয়োগের প্রমাণ

প্রকাশিত: ৮:১২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৭, ২০২৬

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৭ পিএম। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে বাংলাদেশসহ ২৯টি দেশের নাগরিকদের পাচার এবং তাদের জোরপূর্বক যুদ্ধচুক্তিতে সই করানোর চাঞ্চল্যকর প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ। ইউক্রেনবিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের সাম্প্রতিক এক তদন্ত প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ফিলিপাইন, ঘানা, নাইজেরিয়া, কেনিয়া ও উজবেকিস্তানসহ এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল নাগরিকদের টার্গেট করা হতো। বিভিন্ন দেশে সক্রিয় দালাল চক্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভালো বেতনের চাকরির বিজ্ঞাপন দিত অথবা ব্যবসায়িক ভিসার আড়ালে তাদের রাশিয়ায় নিয়ে যেত।

ভুক্তভোগীরা রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাদের পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হতো এবং রুশ ভাষায় লেখা সামরিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হতো। এরপর প্রতারণার শিকার এই পুরুষদের সরাসরি ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রের ঝুঁকিপূর্ণ সম্মুখসারিতে পাঠানো হতো। এর ফলে অনেকে নিহত, আহত বা নিখোঁজ হয়েছেন। এই চক্রের খপ্পরে পড়া ভুক্তভোগী পরিবারগুলো বর্তমানে ঋণের বোঝায় জর্জরিত হয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন এই মানবপাচার বন্ধে রুশ কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে বেআইনি নিয়োগ বন্ধ এবং দোষীদের বিচার করার আহ্বান জানিয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগেও ২০২৫ সালের নভেম্বরে ব্র্যাকের এক প্রতিবেদনে রাশিয়ায় বাংলাদেশি নাগরিকদের জোরপূর্বক যুদ্ধে পাঠানোর বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল।