শেরপুরে ২৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে রমজান আলী আটক

প্রকাশিত: ২:০৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৫, ২০২৬

শেরপুর সদর থানা পুলিশ রমজান আলী নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবসার নামে অধিক লাভের প্রলোভন দেখিয়ে অন্তত ২৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে জেলা শহরের দীঘারপাড় মহল্লায় তাঁর শ্বশুরবাড়ি থেকে পুলিশ তাঁকে আটক করে। আটক রমজান আলী শেরপুর সদর উপজেলার রৌহা ইউনিয়নের শুনিডুবারপাড় এলাকার বাসিন্দা এনামুল হকের ছেলে।

পুলিশ ও ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা গেছে, অধিক লাভের আশ্বাস দিয়ে রমজান আলী শেরপুর সদর উপজেলার বাজিতখিলা ও ভাতশালা ইউনিয়ন এবং পৌরসভার দীঘারপাড়সহ বিভিন্ন এলাকার কৃষক, ধান ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এভাবে অন্তত ২৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।

রমজান আলীকে আটকের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর টাকা ফেরত পাওয়ার আশায় একের পর এক ভুক্তভোগী থানায় আসতে শুরু করেন। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১১ জন ভুক্তভোগী তাঁর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। ভুক্তভোগীরা জানান, তাঁদের অনেকেই জমি, ফসল ও ব্যবসায় বিনিয়োগের জন্য জমানো টাকা রমজান আলীর হাতে তুলে দিয়েছিলেন। অধিক লাভের আশায় কেউ কেউ নিজেদের সঞ্চয়ের পাশাপাশি ধারদেনা করেও টাকা বিনিয়োগ করেন। এখন সেই টাকা ফেরত না পেলে তাঁদের অনেকেরই নিঃস্ব হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, এই অর্থ হারালে অনেক পরিবারকে আর্থিক সংকটে পড়তে হবে। কেউ কেউ ব্যবসা চালিয়ে নেওয়া, ঋণ পরিশোধ ও পরিবারের দৈনন্দিন খরচ মেটানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তাঁরা পাওনা টাকা ফেরত এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

শেরপুর সদর থানার সেকেন্ড অফিসার আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রমজান আলীকে আটকের পর তাঁর কাছে টাকা পাওয়ার দাবি নিয়ে অনেকেই থানায় আসছেন। এ পর্যন্ত ১১ জন লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে অভিযোগে উল্লিখিত অর্থের পরিমাণ ও প্রকৃত ভুক্তভোগীর সংখ্যা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।