হুতিদের থামাতে ১০০ কোটি ডলারের আর্থিক প্যাকেজ প্রস্তাব সৌদি আরবের

প্রকাশিত: ১০:০১ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৮, ২০২৬

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং তাদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১০০ কোটি ডলারের একটি আর্থিক প্যাকেজের প্রস্তাব দিয়েছে সৌদি আরব। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ইসরাইল হায়োমের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান তেহরান সফরের সময় এই প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনা করেন। এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য ছিল সৌদি আরবের অবকাঠামো লক্ষ্য করে হুতিদের ধারাবাহিক হামলা বন্ধ করা।

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, প্রিন্স খালিদ বিন সালমান যখন হারকিউলিস সামরিক পরিবহন বিমানে তেহরানে পৌঁছান, তখন তিনি নগদ ১০০ কোটি ডলার সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এই অর্থ শেষ পর্যন্ত হুতিদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত নয়। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রিন্স খালিদ বিন সালমান এবং মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা জোটের প্রতিনিধিদের এই সফর ছিল উত্তেজনা কমানো, সংলাপ ও কূটনৈতিক সমাধানের প্রচেষ্টার অংশ, যা কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকে সমর্থন করে।

মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় আয়োজিত এই আলোচনায় পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন উপস্থিত ছিলেন। মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে কোনো সদস্যদেশ আক্রান্ত হলে অন্য সদস্যদের সম্মিলিত সামরিক সহায়তার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে পাকিস্তান ও তুরস্ক এ পর্যন্ত পূর্ণমাত্রায় সামরিক সহায়তা দেয়নি; তারা সামরিক উপদেষ্টাদের সহায়তার মধ্যেই নিজেদের ভূমিকা সীমিত রেখেছে। ইরান থেকে বৈঠকে অংশ নেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি এবং ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কোরের প্রতিনিধিরা।

সৌদি আরবের এক কর্মকর্তা ইসরাইল হায়োমকে জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত এই আর্থিক সহায়তা হুতি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বেসামরিক অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং সরকারি কর্মীদের বেতন পরিশোধে ব্যবহারের কথা ছিল। এর বিনিময়ে হুতিদের সৌদি আরবে হামলা বন্ধ এবং যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার শর্ত দেয়া হয়। তবে হুতিরা বর্তমানে অভিযোগ করছে যে, সৌদি আরব তাদের সঙ্গে হওয়া পূর্বের চুক্তি থেকে সরে এসেছে, যা তাদের হামলার পেছনে একটি কারণ হিসেবে কাজ করছে। হুতিদের এই অবস্থানের পেছনে ইরানের সহায়তা রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, হুতিদের ধারাবাহিক হামলায় সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল অবকাঠামো বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালিতে তেল ট্যাংকারে হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। হুতিদের হামলার কারণে রিয়াদ বিমানবন্দরও কয়েক দিনের জন্য বন্ধ রাখতে হয়েছিল এবং একটি বড় বিনিয়োগ সম্মেলন পিছিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছিল সৌদি আরব।