আল্লাহু আকবার ধ্বনি যেভাবে শয়তানকে দুর্বল ও অসহায় করে দেয়

প্রকাশিত: ১১:০০ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৫, ২০২৬

‘আল্লাহু আকবার’ শব্দ দুটি অত্যন্ত বরকতপূর্ণ ও শক্তিশালী। মহান আল্লাহর বড়ত্ব ও মহিমা ঘোষণার মাধ্যমে আল্লাহর বিশেষ রহমত লাভ করা সম্ভব হয়। এই তাকবির মুমিনের ঈমানি শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে মহান আল্লাহ বান্দাদের তাঁর বড়ত্ব ঘোষণার নির্দেশ দিয়েছেন। সুরা বনি ইসরাঈলের ১১১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘আর বলো, সব প্রশংসা আল্লাহরই, যিনি কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি, রাজত্বে তাঁর কোনো শরিক নেই এবং অপমান থেকে বাঁচতে তাঁর কোনো অভিভাবকের দরকার নেই। সুতরাং তুমি পূর্ণরূপে তাঁর বড়ত্ব ঘোষণা করো।’

ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি শয়তানকে দুর্বল ও অসহায় করে দেয়। যখন মুয়াজ্জিন আজান শুরু করেন, তখন শয়তান আজানের শব্দ শুনতে না পাওয়ার জন্য হাওয়া ছেড়ে পালায়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, আজানের ধ্বনি শয়তানের জন্য এক অসহনীয় যন্ত্রণা। আজান শেষ হলে সে আবার ফিরে আসে, কিন্তু ইকামতের সময় হলে আবার দূরে সরে যায়। ইকামত শেষ হলে সে পুনরায় ফিরে এসে মানুষের মনে বিভিন্ন কুমন্ত্রণা দেয়, যাতে মানুষ নামাজের রাকাত সংখ্যা ভুলে যায়।

এই হাদিস থেকে স্পষ্ট যে, আজান ও ইকামতের সময় আল্লাহর মহিমা ঘোষণার ধ্বনি শয়তানের জন্য চরম লাঞ্ছনাকর। সে শুধু পালিয়েই যায় না, বরং এই পবিত্র ধ্বনি তার ষড়যন্ত্রকে ভেঙে দেয়। শয়তানের মূল কাজ হলো মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করা, কিন্তু আল্লাহর নামের ধ্বনি তার সব কৌশলকে দুর্বল করে ফেলে।

আজান কেবল শয়তানকে দূরে সরায় না, বরং পরিবেশকে পবিত্র করে এবং মানুষের গাফেল হৃদয়কে জাগিয়ে তোলে। যে সমাজে নিয়মিত আজানের ধ্বনি উচ্চারিত হয়, সেখানে শয়তানের প্রভাব তুলনামূলক কম থাকে। ‘আল্লাহু আকবার’ মুমিনের জীবনে এক বিশাল শক্তির উৎস, যা মানুষকে মনে করিয়ে দেয় যে একমাত্র আল্লাহই সবচেয়ে বড় এবং ক্ষমতাধর। এর ফলে মানুষের অন্তরে তাকওয়া, সাহস ও প্রশান্তি জন্ম নেয় এবং হতাশা ও ভয় দূর হয়।

(বুখারি, হাদিস : ৬০৮) এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, যখন মুয়াজ্জিন ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি দিয়ে আজান শুরু করে মানুষকে ইবাদতের আহ্বান করেন, তখন শয়তানের অবস্থা অত্যন্ত লাঞ্ছনাকর হয়।

আরও পড়ুন সমাজকে ধ্বংস করে দেয় যে ৪ গুনাহ   আজান শুধু শয়তানকে দূরে সরায় না, বরং পরিবেশকে পবিত্র করে, মানুষের অন্তরকে আলোকিত করে এবং গাফেল হৃদয়কে জাগিয়ে তোলে।