রাজশাহীর বাগমারায় আ.লীগ পুনর্বাসনের নেপথ্যে কে এই কোটিপতি ফিরোজ? প্রকাশিত: ১২:৩৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৯, ২০২৬ রাজশাহীর বাগমারায় মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে অটোরিকশাচালক থেকে কোটিপতি বনে যাওয়া ফিরোজুল ইসলাম ফিরোজের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ও নিষ্ক্রিয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পলাতক নেতাকর্মীদের আশ্রয় দেওয়া, গোপন বৈঠক করা এবং সাংগঠনিক তৎপরতা চালানোর নেপথ্যে মূল কারিগর হিসেবে কাজ করছেন তিনি। তবে গত ১২ আগস্ট নিজস্ব এনজিও কার্যালয়ে এক গোপন বৈঠক চলাকালে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। স্থানীয় বাসিন্দা ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, একসময় অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা ফিরোজের জীবনযাত্রা মাত্র কয়েক বছরেই বদলে গেছে। বর্তমানে তিনি ডুপ্লেক্স বাড়ির মালিক, ব্যবহার করছেন দুটি বিলাসবহুল গাড়ি এবং গড়ে তুলেছেন কোটি কোটি টাকার ব্যবসা ও এনজিও। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি এলাকা ছেড়ে সাভারে একটি বিশাল বাড়ি ভাড়া নেন। সেখানে বাগমারা থেকে পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি দলটির বিপুল অঙ্কের তহবিল তার কাছে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। কয়েক মাস আত্মগোপনে থাকার পর তিনি পুনরায় বাগমারায় ফিরে এসে নিজস্ব বাহিনীকে সক্রিয় করেন। গত ১২ আগস্ট বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জে অবস্থিত ফিরোজের মালিকানাধীন ‘বাগমারা সবুজ বাংলা লি.’ নামক এনজিও কার্যালয়ে একটি গোপন বৈঠক বসে। পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে ফিরোজকে গ্রেফতার করতে পারলেও তার শীর্ষ সহযোগীরা পালিয়ে যায়। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কারাবন্দি সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও তাহেরপুর পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি জাকিরুল ইসলাম সান্টুর ব্যক্তিগত সহকারী সাজেদুর রহমান, সাবেক সর্বহারা সদস্য ও বর্তমানে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত শহিদুল ইসলাম শহিদ, পুকুর খননের মূলহোতা আমজাদ হোসেন এবং ছাত্রলীগ কর্মী রেজোয়ান ও রাসেল। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ফিরোজ বর্তমানে ঝিকরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং এই নির্বাচনি প্রচারণাকে কেন্দ্র করেই আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছেন। তার এই সাংগঠনিক তৎপরতায় ঝিকরা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিক, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মানিক হোসেন, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মোশাররফ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক জলিল মাস্টার এবং ভবানীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মালেক মণ্ডলসহ একাধিক শীর্ষ নেতা সম্পৃক্ত রয়েছেন। এছাড়া নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখতে ‘বাগমারা উপজেলা যুবলীগ’ নামক একটি ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে সরকারবিরোধী ও আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, যা নিয়ন্ত্রণ করছেন যুবলীগ নেতা সোহেল রানা। বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম জানান, ১২ আগস্ট গোপন বৈঠক চলাকালে ফিরোজকে গ্রেফতার করা হয়। গত ২৪ জুলাই ভবানীগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের বাড়িতে ককটেল হামলার ঘটনার সঙ্গে ফিরোজের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়ায় তাকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনায় জড়িত তার অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেফতারেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উপদেশের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও ঝিকরা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সাইদুজ্জামান রতন অভিযোগ করে বলেন, ফিরোজ ক্যাসিনো ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং তার এই বিপুল সম্পদের উৎস নিয়ে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তিনি আরও জানান, ১৫ আগস্ট ফিরোজ ও যুবলীগ নেতা সোহেল রানাসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বাগমারাজুড়ে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে তার আগেই ফিরোজ গ্রেফতার হওয়ায় স্থানীয় জনগণের মধ্য থেকে আতঙ্ক দূর হয়েছে। SHARES রাজনীতি বিষয়: আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনককটেল হামলাগ্রেফতারবাগমারারাজশাহী