ডিসেম্বরকে ঘিরে নাশকতার ছক কষছে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ

প্রকাশিত: ৪:৪৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৯, ২০২৬

গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নিষ্ক্রিয় থাকলেও, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ডিসেম্বর মাসকে কেন্দ্র করে নতুন কৌশলে এগোচ্ছে। মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সক্রিয় রাখা, পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার চেষ্টা করছে দলটি। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে পুঁজি করে নেতাকর্মীরা বিশৃঙ্খলা ও নাশকতার ছক কষছেন। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে চলেছেন মাঠপর্যায়ের কর্মীরা। নারায়ণগঞ্জের পলাতক নেতা শামীম ওসমানও ডিসেম্বরে নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন, যার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি প্রতিবেদন সরকারের উচ্চপর্যায়ে অবহিত করা হয়েছে। বিশেষ করে গত দুই সপ্তাহে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উদ্বিগ্ন। এর মধ্যে বনানী, ময়মনসিংহ, শরীয়তপুর, সাভার ও সুনামগঞ্জের ঘটনাগুলো উল্লেখযোগ্য। ময়মনসিংহের গাঙ্গিনাপাড় এলাকায় যুবলীগের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিল প্রতিরোধের ক্ষেত্রে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কোতোয়ালি মডেল থানার ১ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জসহ ২৭ সদস্যের পুরো টিমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সব ইউনিটকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় এবং এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ব্যবহার করে মাঠপর্যায়ের কর্মীরা বিদেশের পলাতক নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর, গাজীপুর, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ জেলার নেতাকর্মীরা এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সক্রিয়। সংগঠিত হওয়ার প্রক্রিয়ায় দেশে অবস্থানরত নেতাকর্মীরা ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, নসরুল হামিদ বিপু, এনামুল হক শামীম, জাহাঙ্গীর আলম, নিক্সন চৌধুরী, নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন, নজরুল ইসলাম বাবু ও মহিউদ্দিন মহারাজের মতো নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, ব্যবসা-বাণিজ্যের আড়ালে সরকারবিরোধী তৎপরতার জন্য তহবিল গঠন করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে অনেক নেতাকর্মী রাইড শেয়ারিং, বিউটি পার্লার, মোটরসাইকেলের শোরুম বা অনলাইন পোর্টাল ও ইউটিউব চ্যানেল পরিচালনার মতো পেশা বেছে নিয়েছেন। এসব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিত্যক্ত অবস্থায় ককটেল ও বোমাসদৃশ বস্তু এবং বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার হওয়াকে গোয়েন্দারা নাশকতার পূর্বলক্ষণ হিসেবে দেখছেন।

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজি) আব্দুল কাইয়ুম বলেন, দলের নেতাদের ব্যাপক দুর্নীতি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ফলে প্রচুর অর্থ তাদের হাতে রয়েছে, যা ব্যবহার করে তারা অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করতে পারে। তবে জুলাই-আগস্টের গণহত্যার ঘটনা মানুষের মনে এখনো তাজা থাকায় দলের প্রতি জনসমর্থন নেই বলেও তিনি মনে করেন। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত আছে এবং কোনো মহল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির চেষ্টা করছে কি না তা নিয়ে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। সমাজ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) নাঈম আশফাক চৌধুরী বিষয়টিকে রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার কৌশল হিসেবে দেখছেন এবং জনগণের সহযোগিতায় বিশৃঙ্খলা প্রতিহত করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন।

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজি) আব্দুল কাইয়ুম যুগান্তরকে বলেন, ক্ষমতায় থাকাকালে আওয়ামী লীগের শীর্ষ থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা ব্যাপক দুর্নীতি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছিলেন। তাদের অনেক টাকা আছে। টাকা খরচ করে তারা দেশে একটি অরাজক পরিস্থিতি তৈরির অপচেষ্টা চালাতে পারেন। এক্ষেত্রে তারা সফল হতে পারবে

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) নাঈম আশফাক চৌধুরী বলেন, দেশে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বেই। চব্বিশের ৫ আগস্টের পরপরই নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে যে ধরনের অস্থিরতা ও নাজুক অবস্থা তৈরি হয়েছিল, বর্তমানে সেই পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা আগের তুল