সিরাজগঞ্জে জামায়াত নেতার ওপর হামলা, বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশিত: ৫:০৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

সিরাজগঞ্জে জামায়াতে ইসলামীর এক নেতাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আহত জামায়াত নেতা আব্দুস সবুর সেখের স্ত্রী শোহর বানু বাদী হয়ে গতকাল শনিবার রাতে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় এই মামলাটি করেন। আজ রোববার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহারে সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম সরকারসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে আসামিদের বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি এবং তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আহত আব্দুস সবুর সেখ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির। এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, গতকাল দুপুরে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের গাড়িবহর যমুনা সেতু পার হয়ে সয়দাবাদ এলাকা অতিক্রম করার সময় আব্দুস সবুর সেখ নেতাকর্মীদের নিয়ে স্বাগত জানান। সে সময় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা জামায়াতের কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। পরে স্থানীয় একটি মসজিদে জোহরের নামাজ শেষে বের হওয়ার পর আব্দুস সবুর সেখকে একা পেয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও মারধর করে গুরুতর আহত করেন।

আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার শরীরের তিন স্থানে জখমের চিহ্ন রয়েছে।

এদিকে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘লংমার্চের সময় স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে জামায়াত নেতাকর্মীদের তর্কবিতর্ক হয়। ওই ঘটনার একটি ভিডিও জামায়াতের পক্ষ থেকে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ কারণে স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মী আব্দুস সবুরকে ধরে কিলঘুষি দিয়েছে। কাঠের চেলা দিয়ে আঘাত করার কারণে হয়তো তার শরীর থেকে রক্ত বের হয়েছে। কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ সঠিক নয়।’