সরকারি অফিসে সেবাগ্রহীতা যেন হয়রানির শিকার না হন: তারেক রহমান প্রকাশিত: ১০:৩২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৮, ২০২৬ সরকারি অফিস ও আদালতে সেবা নিতে এসে কোনো নাগরিক যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, তা অবশ্যই নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিপিএটিসি) আয়োজিত সরকারি কর্মকর্তাদের ৮১তম ফাউন্ডেশন ট্রেনিং বা বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মজীবন শুরু করতে যাওয়া নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা প্রথমবারের মতো পোস্টিং পেয়ে রাষ্ট্রের জনপ্রশাসনের অংশ হতে যাচ্ছেন। সরকারি প্রশাসন যত দক্ষ ও সৎ হবে, সরকারের কার্যক্রমও তত সফলতা পাবে। একটি সরকারের সার্বিক সাফল্যের জন্য ‘দক্ষতা, সততা এবং মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন’ প্রশাসন গড়ে তোলা জরুরি, যা একজন কর্মকর্তার পাশাপাশি রাষ্ট্র ও সরকারকেও সমৃদ্ধ করে। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে (বিসিএস) বর্তমানে মোট ২৬টি ক্যাডার রয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, প্রশিক্ষণ শেষে কর্মকর্তারা প্রশাসন, পররাষ্ট্র, কৃষি, ট্যাক্সেশন, শিক্ষা কিংবা তথ্য ক্যাডারসহ নিজ নিজ ক্ষেত্রে যোগ দেবেন। বিষয় বা কর্মস্থল অনুযায়ী কাজের ধরণে ভিন্নতা থাকলেও প্রত্যেকের প্রধান ও প্রথম পরিচয় হচ্ছে—তারা জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা এবং জনগণের সেবা করতেই দায়িত্বপ্রাপ্ত। কর্মজীবনে কোন কাজগুলো করা উচিত কিংবা অনুচিত, তা কর্মকর্তারা নিজেরাই ভালো জানেন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জানা বিষয়গুলো কর্মক্ষেত্রে বাস্তবায়নের সদিচ্ছাই মূল বিষয়। পছন্দের পদে পোস্টিং বা পদোন্নতির আশায় পেশাগত দক্ষতা ও সততার সঙ্গে আপস না করার আহ্বান জানান তিনি। দেশের যে কোনো স্থানে যে কোনো পদে দায়িত্ব পালনে মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকাই চূড়ান্ত পেশাদারিত্বের পরিচায়ক উল্লেখ করে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, একটি সরকার যেমন চিরস্থায়ী নয়, তেমনি প্রশাসনের কোনো পদও কারো জন্য স্থায়ী নয়। কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সমর্থন থাকা স্বাভাবিক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি সমর্থনের প্রতিফলন ঘটতে হবে ব্যালট বাক্সে, সরকারি অফিসে নয়। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান সরকার জনগণের দেওয়া রায়ের ভিত্তিতে তাদের ইশতেহার বাস্তবায়ন করছে। নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে পেশ করা ইশতেহার এখন দেশের জনগণের দলিলে পরিণত হয়েছে। ফলে জনগণের সেই ইশতেহার আন্তরিকতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা প্রশাসনের দায়িত্ব। প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা কমাবার বিষয়ে আলোকপাত করে তারেক রহমান বলেন, সরকারি সেবা আরও সহজ ও নাগরিকবান্ধব করার ক্ষেত্রে কেবল প্রশাসনিক উদ্যোগ নয়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ইতিবাচক মানসিকতাই বেশি কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে। এই পরিবর্তন আনবে বলে নতুন কর্মকর্তাদের প্রতি তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। SHARES অন্যান্য বিষয়: জনপ্রশাসনতারেক-রহমানপ্রধানমন্ত্রীবিপিএটিসিবিসিএস ক্যাডারবুনিয়াদি প্রশিক্ষণ