সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

প্রকাশিত: 2:30 PM, July 26, 2026

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে। শনিবার হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি জানান, সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর জিজান ও ইয়ানবুর স্থাপনাগুলো তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এবং রয়টার্সের যাচাই করা ভিডিও ফুটেজে জিজানের আরামকো শোধনাগারের দিক থেকে ঘন ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। জ্বালানি বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র জানিয়েছে, জিজানের তেল ও জ্বালানি সংরক্ষণাগারে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে, তবে আরামকো কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

ইয়ানবুর তেল স্থাপনায় ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবে মোতায়েন গ্রিক বাহিনীর পরিচালিত মার্কিন প্যাট্রিয়েট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে বলে গ্রিক নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে। লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত ইয়ানবু বর্তমানে সৌদি আরবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি বন্দর। হরমুজ প্রণালির বিকল্প পথ হিসেবে এই বন্দরের গুরুত্ব অনেক। এদিকে জিজানের শোধনাগারে প্রতিদিন প্রায় চার লাখ ব্যারেল তেল পরিশোধনের সক্ষমতা রয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার লোহিত সাগরে দুটি সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারেও হামলার দাবি করেছিল হুথিরা।

এর জবাবে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের বিমান বাহিনী মারিব ও আল-জাওফ প্রদেশে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও অস্ত্রগুদামে হামলা চালিয়েছে। শুক্রবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হোদেইদা শহরে হুথিদের সামরিক অবস্থানে বিমান হামলার কথা জানালেও তারা দাবি করেছে, বন্দর স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি। ইয়েমেনের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গৃহযুদ্ধের উভয় পক্ষই বর্তমানে নতুন করে সেনা ও অস্ত্র মোতায়েন করছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের টানা ১৩ দিনের ক্রমবর্ধমান বিমান হামলা কেন হঠাৎ বন্ধ রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে তাদের নৌ অবরোধ এখনো কার্যকর রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্প কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দিলেও ইরানকে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংঘাতের বিস্তৃতি ও বৈশ্বিক অর্থনীতির নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কায় আপাতত ইরানের ওপর হামলা জোরদার করার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন ট্রাম্প।

যদিও তারা বলেছে, বন্দর স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি।ইয়েমেনের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, গৃহযুদ্ধের উভয় পক্ষই এখন সম্মুখসারিতে নতুন করে সেনা ও অস্ত্র মোতায়েন করছে।২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখলের পর থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোট তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে আসছে।

২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সংঘাত অনেকটাই থেমে গেলেও চলতি মাসে সেই সমঝোতা কার্যত ভেঙে পড়েছে।